যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে AI আধিপত্য ChatGPT-এর, কাজে গতি বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস অফিসগুলোতে পেইড AI ব্যবহারে ChatGPT-এর আধিপত্য দেখা গেছে। House স্পেন্ডিং রেকর্ড বলছে, সংসদ সদস্যরা মেমো খসড়া, আইন সংক্ষিপ্তকরণ এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগে এই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস অফিসগুলোতে পেইড AI ব্যবহারে ChatGPT-এর আধিপত্য দেখা গেছে। House স্পেন্ডিং রেকর্ড বলছে, সংসদ সদস্যরা মেমো খসড়া, আইন সংক্ষিপ্তকরণ এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগে এই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহারে এখন সবার উপরে ChatGPT। TechCrunch-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অফিসগুলোতে পেইড AI টুল হিসেবে OpenAI-এর এই চ্যাটবটটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। House স্পেন্ডিং রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংসদ সদস্যরা দৈনন্দিন কাজে ChatGPT-এর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছেন।
এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে AI-এর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। কংগ্রেস কর্মীরা মেমো খসড়া করা, জটিল আইন সংক্ষিপ্ত করা এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের চিঠি লেখার মতো কাজে ChatGPT ব্যবহার করছে। এর ফলে দীর্ঘ দিনের কায়িক পরিশ্রমের কাজগুলো এখন কয়েক মিনিটেই সম্পন্ন হচ্ছে, যা কর্মীদের সময় বাঁচাচ্ছে এবং কাজের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
TechCrunch-এর তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের পেইড AI সাবস্ক্রিপশনের একটি বড় অংশই ChatGPT-এর দখলে। House-এর বিভিন্ন কমিটি এবং অফিস আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এই টুল ব্যবহার করছে। যেমন, একটি বিলের দীর্ঘ খসড়া পড়ে তার মূল বিষয়বস্তু বের করা, সংশোধনী প্রস্তাবের প্রভাব বিশ্লেষণ করা বা নীতিনির্ধারকদের জন্য সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করা — সব ক্ষেত্রেই ChatGPT কাজে লাগছে।
তবে শুধু কংগ্রেসই নয়, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ChatGPT-এর ব্যবহার বাড়ছে। ওপেনএআই তাদের মডেলগুলোকে আরও শক্তিশালী করছে, যার ফলে নতুন নতুন ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ সম্ভব হচ্ছে। GPT-4-এর মতো উন্নত মডেলগুলো জটিল ভাষা বোঝা এবং যুক্তিসংগত উত্তর দেওয়ার দক্ষতা দেখাচ্ছে। ফলে নথি প্রস্তুত করা বা সংক্ষিপ্তকরণের মতো কাজে এটি আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের ফ্রিল্যান্সার, ডেভেলপার এবং শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যেই ChatGPT ব্যবহার করে কাজ করছেন। সরকারি অফিসগুলোতেও যদি এই ধরনের AI টুল ব্যবহার শুরু হয়, তাহলে জটিল প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে। যেমন, দীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরি, আইনগত নথি সংক্ষিপ্তকরণ বা জনসাধারণের অভিযোগের জবাব দেওয়ার মতো কাজে এটি সময় ও খরচ বাঁচাতে পারে। তবে এর জন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে।
তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI-এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নীতিমালা তৈরি করা জরুরি। কংগ্রেসের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে। সরকারি কাজে AI ব্যবহার করলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কাজের মান উন্নত হবে। তবে ডেটা সুরক্ষা এবং গোপনীয়তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, ChatGPT-এর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে AI এখন আর শুধু প্রযুক্তি উৎসাহীদের খেলনা নয়। এটি এখন সরকারি কাজে একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশ ও প্রতিষ্ঠান এ ধরনের টুল ব্যবহার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: TechCrunch AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...