AI ব্যবহারে সপ্তাহে ১ দিন সময় বাঁচছে, কিন্তু কোম্পানিগুলো কাজে লাগাতে পারছে না
বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের গবেষণায় দেখা গেছে, 74% হোয়াইট-কলার কর্মী নিয়মিত AI ব্যবহার করছেন। 40% এর বেশি বলছেন AI তাদের সপ্তাহে অন্তত একদিন সময় বাঁচাচ্ছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো এই সাশ্রয়কে মাপা যায় এমন মূল্যে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের গবেষণায় দেখা গেছে, 74% হোয়াইট-কলার কর্মী নিয়মিত AI ব্যবহার করছেন। 40% এর বেশি বলছেন AI তাদের সপ্তাহে অন্তত একদিন সময় বাঁচাচ্ছে। কিন্তু কোম্পানিগুলো এই সাশ্রয়কে মাপা যায় এমন মূল্যে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
AI টুল ব্যবহারে কর্মীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়লেও, কোম্পানিগুলো সেই লাভকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে না। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (BCG) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, নন-ম্যানেজারিয়াল হোয়াইট-কলার কর্মীদের 74 শতাংশই নিয়মিত AI টুল ব্যবহার করছেন।
এই ব্যবহারের প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় অংশ নেওয়া 40 শতাংশের বেশি পেশাদার জানিয়েছেন, AI তাদের সপ্তাহে অন্তত এক দিনের সমান সময় বাঁচাতে সাহায্য করছে। অর্থাৎ, AI সরাসরি কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই সাশ্রয় হওয়া সময় ও দক্ষতাকে কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িক মূল্যে রূপান্তর করতে পারছে না।
গবেষণাটি বিভিন্ন শিল্পের ওপর AI-এর প্রভাব বিশ্লেষণ করেছে। দেখা গেছে, প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার খাতে AI-এর গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, উৎপাদন ও খুচরা ব্যবসার মতো ঐতিহ্যবাহী খাতে এই হার তুলনামূলকভাবে কম। তবে সব খাতেই একটি সাধারণ সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে: প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে AI থেকে পাওয়া সময় সাশ্রয়কে নতুন পণ্য বা সেবায় রূপান্তরের স্পষ্ট কৌশল নেই।
BCG-এর মতে, AI থেকে প্রকৃত মূল্য পেতে হলে শুধু টুল ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। কোম্পানিগুলোকে তাদের কর্মপ্রক্রিয়া পুনর্নির্ধারণ করতে হবে এবং কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান AI-কে একটি স্বতন্ত্র টুল হিসেবে দেখছে, অথচ এটিকে পুরো ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জন্যও এই গবেষণার বার্তা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ফ্রিল্যান্সার, আইটি প্রতিষ্ঠান এবং স্টার্টআপগুলো ইতিমধ্যেই ChatGPT, Copilot, এবং অন্যান্য AI টুল ব্যবহার করছে। কিন্তু এই টুলগুলো ব্যবহার করে সময় বাঁচানোর পর সেই সময়কে কীভাবে নতুন প্রকল্প, গবেষণা বা উদ্ভাবনে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। বাংলাদেশের ডেভেলপার ও উদ্যোক্তাদের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো AI-কে শুধু কাজের গতি বাড়ানোর হাতিয়ার না রেখে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনে পরিণত করা।
ভবিষ্যতে AI-এর ব্যবহার আরও বাড়বে, কিন্তু সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে কোম্পানিগুলোকে তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে হবে। শুধু সময় বাঁচানো নয়, সেই সময় দিয়ে কী নতুন মূল্য তৈরি করা যায়, সেটাই হবে সাফল্যের চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Reddit r/artificial
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...