শিক্ষায় AI ব্যবহারে ২০৩০ সালে ৯.১ বিলিয়ন ডলারের বাজার, বাড়বে ৪২.৮% হারে
জেনারেটিভ AI-এর শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবহার আগামী কয়েক বছরে ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাজারের আকার ৯.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইয়াহু ফাইন্যান্স।
জেনারেটিভ AI-এর শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবহার আগামী কয়েক বছরে ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাজারের আকার ৯.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইয়াহু ফাইন্যান্স।
শিক্ষাক্ষেত্রে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Generative AI-এর ব্যবহার বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়ছে। ইয়াহু ফাইন্যান্স-এর এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ৯.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। আর এই বৃদ্ধির বার্ষিক হার হবে ৪২.৮ শতাংশ।
এই প্রতিবেদনটি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে ChatGPT-এর মতো টুল ক্লাসরুমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হয়ে উঠছে। কিন্তু এই বাজার আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেনারেটিভ AI বলতে বোঝায় এমন সব প্রযুক্তি যা নিজে নিজে নতুন কন্টেন্ট তৈরি করতে পারে। যেমন টেক্সট, ইমেজ, কোড বা কুইজ। শিক্ষাক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করে ব্যক্তিগতকৃত শেখার অভিজ্ঞতা তৈরি করা যায়। একজন শিক্ষার্থীর দুর্বলতা বুঝে সেই অনুযায়ী প্রশ্ন বা ব্যাখ্যা তৈরি করে দিতে পারে AI।
প্রতিবেদনটি আরও জানিয়েছে, এই বাজার বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত ডিজিটালাইজেশন। কোভিড-১৯ মহামারির পর অনলাইন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এখন AI সেই অনলাইন শিক্ষাকে আরও স্মার্ট ও কার্যকর করতে পারে।
শিক্ষকদের জন্যও এটি বড় সুযোগ এনে দিচ্ছে। AI স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেডিং, অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি এবং শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্স ট্র্যাক করতে পারে। ফলে শিক্ষকরা আরও সৃজনশীল কাজের জন্য সময় পাবেন।
বাংলাদেশের জন্যও এই খবর অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ডেভেলপাররা ইতিমধ্যেই AI ও মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে AI-ভিত্তিক স্টার্টআপ তৈরি করার জন্য এটি বড় সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলগুলোতে AI ব্যবহার করে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা সম্ভব।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা AI টুল ব্যবহার করে নিজের মতো করে শিখতে পারবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে ভালো শিক্ষকের অভাব, সেখানে AI-চালিত টিউটরিং সিস্টেম বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রযুক্তি অবকাঠামো।
বিশ্বব্যাপী এই বাজার বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের আইটি সেক্টরের জন্যও নতুন রপ্তানি সুযোগ তৈরি হবে। ফ্রিল্যান্সাররা AI-ভিত্তিক শিক্ষা সফটওয়্যার তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, শিক্ষাক্ষেত্রে জেনারেটিভ AI-এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। ৪২.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে এই প্রযুক্তি শিক্ষার চেহারা বদলে দেবে। বাংলাদেশের জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার সময়।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...