নতুন AI মডেল ওষুধ আবিষ্কারের গতি ১০ গুণ বাড়াবে, জানুন কীভাবে
বিজ্ঞানীরা একটি অভিনব generative AI মডেল তৈরি করেছেন যা পারমাণবিক নির্ভুলতায় প্রোটিন-প্রোটিন মিথস্ক্রিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে। এই অগ্রগতি ওষুধ আবিষ্কার এবং জৈবিক গবেষণার গতি অনেক বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা একটি অভিনব generative AI মডেল তৈরি করেছেন যা পারমাণবিক নির্ভুলতায় প্রোটিন-প্রোটিন মিথস্ক্রিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে। এই অগ্রগতি ওষুধ আবিষ্কার এবং জৈবিক গবেষণার গতি অনেক বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা একটি বিপ্লবী generative AI মডেল তৈরি করেছেন যা প্রোটিনের মধ্যে পারমাণবিক স্তরের মিথস্ক্রিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম। Phys.org-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মডেল জৈবিক প্রক্রিয়ার মৌলিক একক প্রোটিনের আচরণ বুঝতে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। গবেষকরা দাবি করেছেন, এই প্রযুক্তি ওষুধ শিল্প এবং মৌলিক জীববিজ্ঞান গবেষণায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রোটিন মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অণুগুলোর একটি। তারা কোষের গঠন, সংকেত প্রেরণ এবং রোগ প্রতিরোধে মূল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু প্রোটিনগুলো কখনো একা কাজ করে না। তারা সব সময় অন্যান্য প্রোটিনের সঙ্গে জটিল নেটওয়ার্ক তৈরি করে মিথস্ক্রিয়া চালায়। এই মিথস্ক্রিয়া বোঝা না গেলে অনেক রোগের কারণ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি অজানা থেকে যায়। নতুন AI মডেলটি সেই জটিল ধাঁধার সমাধান করতে পারে।
প্রথাগত পদ্ধতিতে প্রোটিন মিথস্ক্রিয়া বোঝার জন্য ল্যাবে কয়েক মাস বা বছর সময় লেগে যেত। বিজ্ঞানীরা এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি বা ক্রায়ো-ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কপির মতো ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ব্যবহার করতেন। কিন্তু নতুন generative AI মডেলটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটে। এটি বিদ্যমান প্রোটিন গঠনের ডেটা থেকে শিখে নতুন এবং অজানা মিথস্ক্রিয়ার সম্ভাব্য কাঠামো তৈরি করে। মডেলটি পারমাণবিক স্তরের নির্ভুলতা বজায় রাখে, যা আগের কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল করতে পারেনি।
এই মডেলের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো এর ভবিষ্যদ্বাণীর নির্ভুলতা। গবেষকরা জানিয়েছেন, মডেলটি পরীক্ষাগারে যাচাই করা মিথস্ক্রিয়ার সঙ্গে 95 শতাংশের বেশি মিল দেখিয়েছে। এটি বর্তমানে ব্যবহৃত অন্যান্য AI মডেলের তুলনায় অন্তত ৩ গুণ বেশি নির্ভুল। বিশেষ করে জটিল প্রোটিন কমপ্লেক্সের ক্ষেত্রে, যেখানে একাধিক প্রোটিন একসঙ্গে কাজ করে, সেখানে মডেলটির পারফরম্যান্স অসাধারণ।
বাংলাদেশের জন্য এই খবর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এই AI মডেল ব্যবহার করে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো নতুন ওষুধ আবিষ্কারের সময় এবং খরচ অনেক কমিয়ে আনতে পারে। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জৈব তথ্যবিজ্ঞানী ও বায়োটেকনোলজি গবেষকরা এই মডেল ব্যবহার করে জিনোমিক গবেষণা এগিয়ে নিতে পারেন। ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপের জন্যও এটি একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।
ভবিষ্যতে এই মডেল ক্যান্সার, আলঝেইমার এবং অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন পথ দেখাতে পারে। গবেষকরা এখন মডেলটিকে আরও উন্নত করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত করছেন। AIখবর মনে করে, এই প্রযুক্তি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ওষুধ শিল্পের চেহারা পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। বাংলাদেশের গবেষক এবং উদ্যোক্তাদের এখনই এই প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা এবং ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Tools
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...