বাংলাদেশে ওষুধ আবিষ্কারের গতি বাড়াবে AI-র নতুন ভাষা
বিজ্ঞানীরা একটি নতুন কনফর্মেশন ডেসক্রিপশন ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরি করেছেন যা 3D আণবিক কাঠামোকে AI-র জন্য বোধগম্য করে তুলবে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা ওষুধ আবিষ্কার ও আণবিক মডেলিংয়ের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিজ্ঞানীরা একটি নতুন কনফর্মেশন ডেসক্রিপশন ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরি করেছেন যা 3D আণবিক কাঠামোকে AI-র জন্য বোধগম্য করে তুলবে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা ওষুধ আবিষ্কার ও আণবিক মডেলিংয়ের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
একটি যুগান্তকারী গবেষণায় বিজ্ঞানীরা তিন মাত্রার আণবিক কাঠামো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন। তারা একটি নতুন কনফর্মেশন ডেসক্রিপশন ল্যাঙ্গুয়েজ বা সিডিএল তৈরি করেছে। এই ভাষা AI-কে জটিল আণবিক গঠন সহজে বুঝতে ও বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করবে। বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত বৈজ্ঞানিক জার্নাল Nature-এ এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
এই আবিষ্কারের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো ওষুধ শিল্পে এর সম্ভাবনা। বর্তমানে নতুন ওষুধ তৈরি করতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের লক্ষ লক্ষ আণবিক গঠন পরীক্ষা করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় এবং অর্থ ব্যয় হয়। নতুন এই ভাষা AI-কে দ্রুত সঠিক আণবিক গঠন শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। ফলে ওষুধ আবিষ্কারের সময় কমে আসবে এবং খরচও কমবে।
সিডিএল মূলত একটি বিশেষ ধরনের প্রোগ্রামিং ভাষা। এটি তিন মাত্রার আণবিক গঠনকে একটি সিরিজ কোডে রূপান্তর করে। AI মডেল এই কোড পড়ে বুঝতে পারে কোন পরমাণু কোথায় অবস্থান করছে এবং তারা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। আগের পদ্ধতিগুলোতে AI-কে আণবিক গঠন বোঝাতে অনেক জটিল গাণিতিক হিসাব লাগত। সিডিএল সেই জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
Nature-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে সিডিএল ব্যবহার করে AI মডেল আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুলভাবে আণবিক বৈশিষ্ট্য অনুমান করতে পারে। তারা বিভিন্ন ধরনের জৈব অণু নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, সিডিএল-ভিত্তিক AI মডেলগুলো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি নির্ভুল। এই সাফল্য আণবিক মডেলিংয়ের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই গবেষণার গুরুত্ব অনেক। দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প দিন দিন বড় হচ্ছে। স্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো নতুন ওষুধ তৈরি করতে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সিডিএল ব্যবহার করে তারা AI-চালিত ওষুধ আবিষ্কারের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই ভাষা শিখে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশ নিতে পারবে। ফ্রিল্যান্সিং খাতে কাজ করা ডেটা সায়েন্টিস্ট ও মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ারদের জন্যও এটি একটি নতুন দক্ষতা হতে পারে।
ভবিষ্যতে সিডিএল আরও উন্নত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গবেষকরা এখন এই ভাষাকে আরও বড় ও জটিল অণুর জন্য উপযোগী করে তুলছেন। এছাড়া তারা সিডিএল-ভিত্তিক টুল তৈরি করছেন যা সাধারণ বিজ্ঞানীরাও সহজে ব্যবহার করতে পারবেন। এই উদ্যোগ সফল হলে ওষুধ শিল্প থেকে শুরু করে ন্যানোটেকনোলজি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...