কর্পোরেট জগতে AI গ্রহণে বাংলাদেশ পিছিয়ে, ১০০০ জনে মাত্র ৪ জন উন্নত ব্যবহারকারী
একটি নতুন গবেষণা বলছে, কর্পোরেট জগতে AI গ্রহণের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম। প্রতি 1000 জন ব্যবহারকারীর মধ্যে 840 জন কখনো AI স্পর্শ করেনি, আর মাত্র 4 জন উন্নত পর্যায়ের ব্যবহারকারী। এই তথ্য প্রযুক্তি খাতে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
একটি নতুন গবেষণা বলছে, কর্পোরেট জগতে AI গ্রহণের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম। প্রতি 1000 জন ব্যবহারকারীর মধ্যে 840 জন কখনো AI স্পর্শ করেনি, আর মাত্র 4 জন উন্নত পর্যায়ের ব্যবহারকারী। এই তথ্য প্রযুক্তি খাতে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্বে প্রতিদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে নতুন নতুন আলোচনা হলেও বাস্তব চিত্রটি অনেক ভিন্ন। একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কর্পোরেট জগতে AI গ্রহণের হার এখনও খুবই কম। dev.to AI প্ল্যাটফর্মের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি পুরো কর্পোরেট বিশ্বকে মাত্র 1000 জন মানুষের একটি গ্রাম হিসেবে কল্পনা করা হয়, তাহলে তাদের মধ্যে 840 জন কখনোই AI টুল ব্যবহার করেনি।
এই পরিসংখ্যানটি প্রযুক্তি খাতে একটি বড় ধাক্কা। শুধু তাই নয়, বাকি 160 জনের মধ্যে 139 জন শুধু বিনামূল্যের ChatGPT এক বা দুইবার ব্যবহার করেছে। তাদের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সীমিত। এরপর আছে 10 জন, যারা মাঝে মাঝে ওপেন সোর্স টুল ব্যবহার করে, কিন্তু সেটাও নিয়মিত নয়।
এই তালিকার উপরের দিকে রয়েছে মাত্র 7 জন ব্যবহারকারী, যারা কোনো না কোনো AI সাবস্ক্রিপশনের জন্য অর্থ প্রদান করে। কিন্তু তারাও খুবই সাধারণ কমান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই 7 জনের ব্যবহারও উন্নত বা গভীর নয়।
এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে উন্নত AI ব্যবহারকারী কারা? এই পুরো সমীকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো সেই 4 জন। গবেষণা অনুসারে, প্রতি 1000 জন কর্পোরেট ব্যবহারকারীর মধ্যে মাত্র 4 জন প্রকৃত অর্থে AI-কে কাজে লাগাচ্ছে। তারা জানে কীভাবে AI টুল থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে হয়। তারা কেবল চ্যাট করছে না, বরং API, মেশিন লার্নিং মডেল এবং জটিল ডেটা বিশ্লেষণের জন্য AI ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গে এই তথ্যটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেশের ফ্রিল্যান্সার, ডেভেলপার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি জাগরণের বার্তা। বিশ্ববাজারে AI গ্রহণের এই ফাঁকটিই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। যারা এখনই AI শিখে কাজে লাগাতে পারবে, তারা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় কর্পোরেশন, সবাইকে বুঝতে হবে যে AI এখন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, বর্তমানের প্রয়োজন।
এই গবেষণার ফলাফল প্রযুক্তি কোম্পানি এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি বার্তা। শুধু ফ্রি ট্রায়াল দিলেই হবে না, ব্যবহারকারীদের AI-এর গভীর ব্যবহার শেখানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায়, 840 জনের এই বিশাল অংশটি পিছিয়ে পড়বে।
ভবিষ্যতে AI গ্রহণের এই হার দ্রুত পরিবর্তন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন। কিন্তু এই পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসবে না। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, প্রশিক্ষণ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা। যারা এখনই এই পথে হাঁটতে শুরু করবে, তারাই হবে আগামী দিনের নেতা।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...