প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রযুক্তিই এখন নতুন সম্ভাবনার দরজা, বললেন আইসিটি মন্ত্রী
আইসিটি মন্ত্রী বলেছেন, প্রযুক্তি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বাধা নয়, বরং সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রযুক্তির সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
আইসিটি মন্ত্রী বলেছেন, প্রযুক্তি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বাধা নয়, বরং সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রযুক্তির সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
আইসিটি মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, প্রযুক্তিকে আর প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা যাবে না। এটি হবে সম্ভাবনার পথ, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনকে বদলে দিতে পারে। Techworld Bangladesh-এর খবরে এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উঠে এসেছে।
মন্ত্রী বলেছেন, সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার, সহায়ক ডিভাইস এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক প্রতিবন্ধী মানুষ এখন ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারছে।
সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে মিলে কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি, চাকরির বাজারে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শুধু নির্ভরশীল নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে।
বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বাস করে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় যুক্ত করতে না পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-চালিত টুলস এখন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ছবি বর্ণনা করতে পারে, বধিরদের জন্য কথা অনুবাদ করতে পারে এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ভয়েস নিয়ন্ত্রিত সিস্টেম তৈরি করে দিয়েছে।
তবে শুধু প্রযুক্তি তৈরি করলেই হবে না, সেই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগও তৈরি করতে হবে। স্কুল, কলেজ এবং কর্মস্থলে প্রতিবন্ধী-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আইটি খাতের উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চাকরির কোটা শুধু কাগজে-কলমে থাকবে না, বাস্তবে তারা যেন কাজ করতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি হবে।
এই ঘোষণা বাংলাদেশের ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। যে সব উদ্যোক্তা প্রতিবন্ধী-বান্ধব অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছেন, তারা এখন সরকারি নীতিমালা ও সহায়তার নিশ্চয়তা পাবেন। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও এটি সুখবর, কারণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ মানে সবার জন্য উন্নত সেবা।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করতে সরকার শিগগিরই একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এই কর্মপরিকল্পনার আওতায় প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া এবং সহায়ক ডিভাইসের দাম কমানোর উদ্যোগ থাকবে। আইসিটি মন্ত্রীর এই বার্তা স্পষ্ট যে, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews প্রযুক্তি বাংলা
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...