প্রতিবন্ধী প্রতিভা আর থেমে থাকবে না, প্রযুক্তিতে সুযোগ বাড়াচ্ছে সরকার
আইসিটিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে সরকার। রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আইসিটিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে সরকার। রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না। শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গ্রীন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার সমান অংশীদার হবে। এই লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষায়িত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহ, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং অ্যাক্সেসিবল ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে অ্যাক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করা জরুরি। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের এই আয়োজন সেদিক থেকে একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।
সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে ৬৫০০০০ এর বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ডিজিটাল সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া জাতীয় অ্যাক্সেসিবিলিটি গাইডলাইন ২০২৩ অনুযায়ী সরকারি সব ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপকে অ্যাক্সেসিবল করার কাজ চলছে।
বাংলাদেশে প্রায় ২৮ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম। এই ব্যবধান কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য স্ক্রিন রিডার, ব্রেইল ডিসপ্লে এবং ভয়েস রিকগনিশন সফটওয়্যার সরবরাহ করছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বটে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নতুন প্রযুক্তি শিখে তারা যেন সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে কাজ করে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এতে কোনো প্রতিভাই উপেক্ষিত থাকবে না।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Sarabangla Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...