কর্নেলের AI পদ্ধতি ওষুধ গবেষণার খরচ কমিয়ে দেবে, সময় বাঁচবে ৩ গুণ
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক AI গবেষণা দল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নকশা প্রণয়নে বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতি সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ওষুধ গবেষণাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক AI গবেষণা দল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নকশা প্রণয়নে বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতি সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ওষুধ গবেষণাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নকশা প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করার একটি পদ্ধতি তৈরি করেছে। এই গবেষণার খবর প্রকাশ করেছে কর্নেল ক্রনিকল এবং সেটি কভার করেছে GNews AI Global। গবেষকরা দাবি করছেন, এই পদ্ধতি ওষুধ শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যার সমাধান দিতে পারে।
ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হলো নতুন ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতি মানুষের ওপর পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার নকশা প্রণয়ন করতে বর্তমানে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। গবেষকদের মতে, AI-চালিত এই নতুন পদ্ধতি ট্রায়ালের নকশা প্রণয়নের সময় ৫০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে আনতে পারে। এর ফলে ওষুধ বাজারে আসার সময়ও দ্রুত হবে এবং গবেষণার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
AI মডেলটি কীভাবে কাজ করে? গবেষণা দলটি প্রচুর পরিমাণে পূর্ববর্তী ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করতে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছে। এই অ্যালগরিদম রোগীর জনসংখ্যা, চিকিৎসার ধরন এবং সম্ভাব্য ফলাফলের মধ্যে জটিল সম্পর্ক খুঁজে বের করতে পারে। এর ভিত্তিতে মডেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবচেয়ে কার্যকর এবং নিরাপদ ট্রায়াল ডিজাইন প্রস্তাব করে। এটি গবেষকদের জন্য একটি শক্তিশালী টুল হিসেবে কাজ করবে।
এই প্রযুক্তি বর্তমান পদ্ধতির চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুত কাজ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি সাধারণ ট্রায়াল ডিজাইন করতে যেখানে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লেগে যায়, সেখানে AI মডেলটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক সম্ভাব্য নকশা তৈরি করতে সক্ষম। গবেষকরা তখন সেগুলোর মধ্যে থেকে সবচেয়ে উপযুক্তটি বেছে নিতে পারবেন। এটি শুধু সময় বাঁচায় না, বরং মানবিক ত্রুটির সম্ভাবনাও কমিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবর অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশে ওষুধ শিল্প দ্রুত বাড়ছে এবং স্থানীয়ভাবে নতুন ওষুধ গবেষণার চাহিদাও বাড়ছে। এই AI পদ্ধতি বাংলাদেশি গবেষক ও ওষুধ কোম্পানিগুলোকে কম খরচে এবং দ্রুত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার সুযোগ করে দিতে পারে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থীরা এই প্রযুক্তি শিখে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।
গবেষণা দলটি এখন এই মডেলটিকে আরও উন্নত করার কাজ করছে। তারা চায় মডেলটি যেন বিভিন্ন রোগ এবং জটিল ট্রায়াল ডিজাইনের জন্যও উপযোগী হয়। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ওষুধ গবেষণার পুরো প্রক্রিয়াকেই বদলে দিতে পারে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ প্রযুক্তি ও চিকিৎসার সংযোগস্থলে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...