গুগলের সতর্কবার্তা: ডিপফেক বানানো এখন বৈধ, দায়িত্ব ডেভেলপারদের ওপর
গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, বর্তমান আইনকাঠামো ডিপফেক প্রযুক্তির চেয়ে বহু বছর পিছিয়ে। ফলে ডেভেলপারদের ওপরই পড়ছে ভেরিফিকেশনের পুরো দায়িত্ব। বাংলাদেশের ডেভেলপার ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, বর্তমান আইনকাঠামো ডিপফেক প্রযুক্তির চেয়ে বহু বছর পিছিয়ে। ফলে ডেভেলপারদের ওপরই পড়ছে ভেরিফিকেশনের পুরো দায়িত্ব। বাংলাদেশের ডেভেলপার ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের একজন বোর্ড সদস্য সম্প্রতি একটি গোপন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডিপফেক তৈরির প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই আইনত বৈধ পর্যায়ে চলে গেছে। অথচ এই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি আইনকাঠামো এখনও অনেক পুরনো।
এই সতর্কবার্তাটি শুধু নীতি নিয়ে সমালোচনা নয়। এটি ডেভেলপারদের জন্য একটি প্রযুক্তিগত রোডম্যাপও বটে। Generative Adversarial Networks বা GANs এবং সিনথেটিক মিডিয়া তৈরির আইনি কাঠামো যখন প্রযুক্তির চেয়ে কয়েক বছর পিছিয়ে, তখন ভেরিফিকেশনের পুরো দায়িত্ব চলে আসে অ্যাপ্লিকেশনের স্থাপত্যের ওপর।
ডেভেলপারদের এখন নিজেদের অ্যাপ্লিকেশনে নকল মুখ শনাক্ত করার ব্যবস্থা নিজেদেরই তৈরি করতে হচ্ছে। আইন বলছে না যে এটি করতে হবে। কিন্তু সমাজ এবং ব্যবহারকারীরা এটি আশা করে। এই দায়িত্ব থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বায়োমেট্রিক নিয়ন্ত্রক আইনগুলো ২০১০ সালের দশকের শুরুর দিকের প্রযুক্তির জন্য তৈরি। তখন GANs ছিল গবেষণাগারের বিষয়। এখন এটি সবার হাতে। মোবাইল অ্যাপ দিয়েই যে কেউ যে কারও মুখের ডিপফেক তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গে এলে দেখা যায়, দেশটিতে ফ্রিল্যান্সিং এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট খাতে ডিপফেকের ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক স্টার্টআপ এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এখন বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ব্যবহার করছে। কিন্তু তাদের কাছে ডিপফেক শনাক্ত করার পর্যাপ্ত প্রযুক্তি নেই।
ডেভেলপাররা যদি নিজেদের অ্যাপ্লিকেশনে ডিপফেক ডিটেকশন টুল না বসান, তাহলে জালিয়াতির শিকার হতে পারেন সাধারণ ব্যবহারকারী। এর দায় আইনত ডেভেলপারের কাঁধেই পড়বে। কারণ আইন বলবে যে তারা সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়নি।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন তৈরি করা। গুগলের বোর্ড সদস্যের মতে, এটি সম্ভব নয় যদি না সরকার এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো একসঙ্গে কাজ করে। ডেভেলপারদেরও নিজেদের সচেতন হতে হবে।
ভবিষ্যতে ডিপফেক শনাক্তকরণ টুলগুলো অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের একটি বাধ্যতামূলক অংশ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের ডেভেলপারদের এখন থেকেই এই দিক নিয়ে গবেষণা শুরু করা উচিত। নইলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to ML
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...