ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে বিশেষজ্ঞের ৩ প্রস্তাব, লাভ হবে কোটি গ্রামীণ শিক্ষার্থীর
বাংলাদেশের ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা, শক্তিশালী পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব ও কমিউনিটি-ভিত্তিক কানেক্টিভিটি মডেলের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ওয়াকাস হাসান। তার মতে, অর্থপূর্ণ সংযোগই পারে সবার জন্য সমান ডিজিটাল সুযোগ তৈরি করতে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা, শক্তিশালী পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব ও কমিউনিটি-ভিত্তিক কানেক্টিভিটি মডেলের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ওয়াকাস হাসান। তার মতে, অর্থপূর্ণ সংযোগই পারে সবার জন্য সমান ডিজিটাল সুযোগ তৈরি করতে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা, শক্তিশালী পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব ও কমিউনিটি-ভিত্তিক কানেক্টিভিটি মডেলের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ওয়াকাস হাসান। গ্লোবাল ডিজিটাল ইনক্লুশন পার্টনারশিপের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান হিসেবে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তার মতে, অর্থপূর্ণ সংযোগই পারে সবার জন্য সমান ডিজিটাল সুযোগ তৈরি করতে।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবে শহর ও গ্রামের মধ্যে সংযোগের মান ও গতিতে বড় ব্যবধান রয়েছে। শুধু ইন্টারনেট থাকলেই হবে না, বরং সেটা ব্যবহারের সক্ষমতা, ডিভাইসের প্রাপ্যতা এবং সামর্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি উপাদান মিলেই তৈরি হয় অর্থপূর্ণ সংযোগ।
অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা তৈরির কথা বলতে গিয়ে ওয়াকাস হাসান জানান, নীতিনির্ধারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নারী, প্রতিবন্ধী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা বোঝা ছাড়া প্রকৃত ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়। সরকারের উচিত স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সাশ্রয়ী ডিভাইসের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।
পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে তিনি মোবাইল অপারেটর ও টেক কোম্পানিগুলোর ভূমিকার ওপর জোর দেন। সরকারের নীতি সহায়তা ও বেসরকারি খাতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা একসঙ্গে কাজ করলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি দূরবর্তী এলাকায় টাওয়ার বসানোর জন্য সরকারি জমি ব্যবহার ও কর সুবিধার কথা উল্লেখ করেন।
কমিউনিটি-ভিত্তিক কানেক্টিভিটি মডেলের কথা বলতে গিয়ে ওয়াকাস হাসান বলেন, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি সেন্টারকে সম্পৃক্ত করলে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়বে। গ্রামীণ এলাকায় ছোট ছোট কমিউনিটি হাব তৈরি করে সেখান থেকে ডিজিটাল সেবা দেওয়ার মডেল সফল হয়েছে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে। বাংলাদেশও এই মডেল অনুসরণ করতে পারে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল বিভাজন কমাতে ইতোমধ্যেই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ আছে। তবে বাস্তবে এর প্রভাব এখনও সীমিত। ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞের মতে, অর্থপূর্ণ সংযোগ নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও শিক্ষাখাতে বড় পরিবর্তন আসবে।
ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির এই পথে বড় বাধা হলো অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সচেতনতার অভাব। তবে সঠিক নীতি ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। ওয়াকাস হাসানের মতে, বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের নীতিনির্ধারণ ও বিনিয়োগের ওপর। সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে পারলেই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তব হবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Daily Star Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...