ধীর ইন্টারনেটে AI অগ্রগতি থমকে, বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা পিছিয়ে
বাংলাদেশের ইন্টারনেট গতি এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির তালিকায়। এই ধীরগতি দেশের AI গ্রহণ ও ডিজিটাল সেবার অগ্রগতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের ইন্টারনেট গতি এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির তালিকায়। এই ধীরগতি দেশের AI গ্রহণ ও ডিজিটাল সেবার অগ্রগতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের ইন্টারনেট গতি এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির দেশগুলোর মধ্যে একটি। সম্প্রতি বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম।
এই ধীরগতি শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাই নষ্ট করছে না, বরং দেশের AI খাতের বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। AI-নির্ভর সেবা যেমন মেশিন লার্নিং মডেল ট্রেনিং, রিয়েল-টাইম ডেটা প্রসেসিং এবং ক্লাউড-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য দ্রুত ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট স্পিড টেস্টিং প্ল্যাটফর্ম ওকুলার ডেটা অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গড় ডাউনলোড স্পিড 20 Mbps-এর কম, যা বৈশ্বিক গড় 50 Mbps-এর অর্ধেকেরও কম। ব্রডব্যান্ড সংযোগের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। ফাইবার অপটিক কভারেজ বাড়লেও গ্রাহক পর্যায়ে প্রত্যাশিত গতি মিলছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমস্যা শুধু গ্রামীণ অঞ্চলে নয়, শহরেও প্রকট। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পিক আওয়ারে ইন্টারনেট গতি আরও কমে যায়। এর ফলে ভিডিও কনফারেন্সিং, অনলাইন ক্লাস, টেলিমেডিসিন এবং ই-কমার্স সেবার মান খারাপ হচ্ছে।
বাংলাদেশে AI-ভিত্তিক স্টার্টআপ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধীরগতির কারণে বড় ডেটাসেট নিয়ে কাজ করতে পারছে না। ক্লাউড সার্ভারে ডেটা আপলোড বা ডাউনলোড করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়। ফলে স্থানীয় ডেভেলপার ও গবেষকরা আন্তর্জাতিক সহকর্মীদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়ছেন।
ফ্রিল্যান্সার ও রিমোট কর্মীদের জন্যও এটি বড় সমস্যা। যারা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের জন্য AI মডেল তৈরি করেন, তাদের নিয়মিত বড় ফাইল ট্রান্সফার করতে হয়। ধীর গতিতে কাজের সময় বেড়ে যায়, যা সরাসরি আয়কে প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবলে আরও ব্যান্ডউইথ কেনা এবং গ্রাহক পর্যায়ে অপটিক্যাল ফাইবার সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই। তবেই AI খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে পারবে।
সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ উদ্যোগ সফল করতে হলে প্রথমে ইন্টারনেট গতির সমস্যা সমাধান জরুরি। দ্রুত গতির ইন্টারনেট ছাড়া AI, IoT এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে AI শেখার ও কাজ করার আগ্রহ দেখাচ্ছে, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। কিন্তু তাদের মেধা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। ইন্টারনেট গতি বাড়ালেই কেবল দেশটি AI বিপ্লবে যোগ দিতে পারবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews BD-Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...