বাংলাদেশের ইন্টারনেট গতি বিশ্বে ৯১তম, ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় ধাক্কা!
বাংলাদেশের ইন্টারনেট গতি বিশ্বে অন্যতম ধীর, সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র। মোবাইল ইন্টারনেটে 91তম ও ব্রডব্যান্ডে 93তম অবস্থানে থাকায় দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশের ইন্টারনেট গতি বিশ্বে অন্যতম ধীর, সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র। মোবাইল ইন্টারনেটে 91তম ও ব্রডব্যান্ডে 93তম অবস্থানে থাকায় দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশের ইন্টারনেট গতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এখনও অনেক পিছিয়ে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান 91তম এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে 93তম। BBC-এর এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের ইন্টারনেট অবকাঠামোর দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট গতির তুলনামূলক এই চিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান উদ্বেগজনক। শুধু গতি নয়, ইন্টারনেটের স্থিতিশীলতা এবং মানের দিক থেকেও দেশটি পিছিয়ে আছে। এই অবস্থান বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, অনলাইন শিক্ষা এবং দূরবর্তী কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী বিশ্বে যেখানে ডিজিটাল নির্ভরতা বেড়েছে, সেখানে ধীরগতির ইন্টারনেট দেশের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রতিবেদনটি বলছে, মোবাইল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গড় গতি অনেক উন্নত দেশের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ কম। ব্রডব্যান্ড সংযোগের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ধীরগতির এই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজে যেমন ভিডিও কল, অনলাইন ক্লাস, ফাইল আপলোড-ডাউনলোডে সময়ক্ষেপণ করতে হয়। অথচ соседний দেশ ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো গতির দিক থেকে অনেক এগিয়ে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের তরুণ প্রজন্ম, ফ্রিল্যান্সার এবং আইটি খাতের উদ্যোক্তারা ধীরগতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। একটি ফ্রিল্যান্সারকে একটি বড় ফাইল আপলোড করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, যা তাদের আয়ের সুযোগ কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি বড় সমস্যা, কারণ অনলাইন ক্লাসে নিয়মিত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন ব্যাপক অবকাঠামোগত বিনিয়োগ। অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, 5G প্রযুক্তি চালু এবং আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ জরুরি। সরকার এবং বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে যাতে ইন্টারনেটের গতি এবং মান দুই-ই বাড়ে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি। এই প্রতিবেদনটি সরকারের জন্য একটি জাগরণী বার্তা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে ইন্টারনেটের গতি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক চাহিদা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews প্রযুক্তি বাংলা
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...