চবি উপাচার্যের আহ্বান: এআই নীতিমালা না হলে শিক্ষা খাতে ঝুঁকি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। দেশের শিক্ষা ও গবেষণা খাতে এআইয়ের সুশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। দেশের শিক্ষা ও গবেষণা খাতে এআইয়ের সুশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, AI যেন মানুষের ক্ষতির বদলে কল্যাণ বয়ে আনে, সেজন্য এর ব্যবহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। উপাচার্য সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, AI প্রযুক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসাসহ সব খাতে। কিন্তু এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এখনো দেশে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। এর ফলে একদিকে যেমন অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিভ্রান্তিও দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে AI নির্ভর গবেষণা বাড়ছে, কিন্তু নীতিমালার অভাবে অনেক প্রকল্প থেমে আছে।
চবি উপাচার্য আরও বলেন, AI ব্যবহারে নৈতিকতা, গোপনীয়তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এখন ChatGPT, Google Bard, Midjourney-এর মতো AI টুল ব্যবহার করছে। কিন্তু কখন কোন কাজে এগুলো ব্যবহার করা যাবে, সেটা নিয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। তিনি বলেন, একটি স্পষ্ট নীতিমালা থাকলে শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা AI প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে AI নীতিমালা তৈরি করার সময় স্থানীয় সংস্কৃতি, ভাষা ও চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, শুধু নীতিমালা করলেই হবে না, এর বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে বিশ্বের অনেক দেশ ইতিমধ্যে নিজস্ব নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি AI আইন পাস করেছে, যেখানে ঝুঁকিভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। ভারতে 2023 সালে NITI Aayog AI নীতির খসড়া প্রকাশ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো কোনো কাঠামো তৈরি হয়নি।
বাংলাদেশের ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের জন্য এই নীতিমালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিল্যান্সারদের একটি বড় অংশ এখন AI টুল ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি, কোডিং ও ডিজাইন করছেন। স্পষ্ট নীতিমালা থাকলে তাঁরা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা AI ব্যবহার করে তাদের সেবা উন্নত করতে পারবেন, কিন্তু আইনি জটিলতার ভয়ে অনেকেই এখন পিছিয়ে আছেন।
চবি উপাচার্যের এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, সময়মতো নীতিমালা না হলে AI প্রযুক্তির সুফল পেতে দেরি হবে এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়বে। সরকারের উচিত দ্রুত একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে জনমত যাচাই করা, যাতে সবার অংশগ্রহণে একটি টেকসই কাঠামো দাঁড় করানো যায়।
ভবিষ্যতে AI যেন বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে, সেজন্য আজই এই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews BD-AI বাংলা
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...