বাংলাদেশে ওষুধ আবিষ্কার ৩ গুণ দ্রুত হবে PADME AI-তে
গবেষকরা PADME নামে একটি নতুন ডিপ লার্নিং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছেন যা ওষুধ ও প্রোটিনের মিথস্ক্রিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করে। এই প্রযুক্তি ওষুধ আবিষ্কারের গতি ও নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সক্ষম।
গবেষকরা PADME নামে একটি নতুন ডিপ লার্নিং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছেন যা ওষুধ ও প্রোটিনের মিথস্ক্রিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করে। এই প্রযুক্তি ওষুধ আবিষ্কারের গতি ও নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সক্ষম।
ওষুধ আবিষ্কারের জটিল প্রক্রিয়ায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে এসেছে PADME। এটি একটি ডিপ লার্নিং-ভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক যা ড্রাগ-টার্গেট ইন্টারঅ্যাকশন বা ওষুধ ও প্রোটিনের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করে। dev.to ML সূত্রে জানা গেছে, এই ফ্রেমওয়ার্কটি একাধিক নিউরাল নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচারকে একত্রিত করে একটি অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করে।
PADME-র মূল লক্ষ্য হলো ওষুধ আবিষ্কারের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা। প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি নতুন ওষুধ বাজারে আসতে গড়ে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগে এবং খরচ হয় billions of ডলার। এই ফ্রেমওয়ার্কটি প্রাথমিক পর্যায়েই সম্ভাব্য ওষুধ প্রার্থীদের শনাক্ত করে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় করতে পারে।
প্রযুক্তিগতভাবে PADME একটি মাল্টি-মডেল ডিপ লার্নিং আর্কিটেকচার ব্যবহার করে। এটি ওষুধের রাসায়নিক গঠন ও প্রোটিনের জৈবিক তথ্য উভয়ই বিশ্লেষণ করে। ফ্রেমওয়ার্কটি কনভোলিউশনাল নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং গ্রাফ নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো একাধিক আর্কিটেকচারকে সমন্বিত করে। এই সমন্বয় মিথস্ক্রিয়া ভবিষ্যদ্বাণীর নির্ভুলতা আগের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, PADME ঐতিহ্যবাহী মেশিন লার্নিং মডেলের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি নির্ভুলভাবে ড্রাগ-টার্গেট ইন্টারঅ্যাকশন শনাক্ত করতে পারে। এই উন্নতি ওষুধ আবিষ্কারের পাইপলাইনে ব্যর্থ হওয়া প্রার্থীদের সংখ্যা কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প দ্রুত বাড়ছে এবং জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। PADME-র মতো ফ্রেমওয়ার্ক বাংলাদেশি গবেষক ও কোম্পানিগুলোকে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে জৈবপ্রযুক্তি ও বায়োইনফরমেটিক্সে কাজ করা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।
PADME ফ্রেমওয়ার্কটি ওপেন সোর্স হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। যে কোনো গবেষক বা প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করতে পারবে। এই উন্মুক্ততা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের গবেষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করবে। তারা বিনামূল্যে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের গবেষণা পরিচালনা করতে পারবে।
ভবিষ্যতে PADME-র আরও উন্নত সংস্করণ আসবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তারা ফ্রেমওয়ার্কটিকে আরও বড় ডেটাসেটে প্রশিক্ষণ দিয়ে এর ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। ওষুধ আবিষ্কারের এই নতুন পদ্ধতি আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to ML
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...