AI যুগে আইন না বদলালে পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য সময়োপযোগী আইনি সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম ও আইন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য সময়োপযোগী আইনি সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম ও আইন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তিনি।
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতা মোকাবিলায় সময়োপযোগী আইনি সংস্কার অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর আইন প্রণয়ন ও সংস্কারে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামসহ আইন অঙ্গনের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির গতি এতটাই দ্রুত যে আইনি কাঠামো সময়মতো আপডেট না হলে সেটি সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। AI এখন ছবি তৈরি, লেখা রচনা, তথ্য বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইনি সুরক্ষা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
সরকার ইতিমধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের মতো কিছু আইন প্রণয়ন করলেও সেগুলোকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে বলে মত দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং সেগুলোর বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইনজীবী, সাংবাদিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্যদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা আইনি সাংবাদিক হিসেবে সমাজে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রযুক্তির আইনি দিকগুলো সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় পৌঁছে দিতে হবে। তিনি ফোরামের সদস্যদের আইনি সংস্কার প্রক্রিয়ায় গঠনমূলক মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই আইনি সংস্কার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং খাতে বিপুল সংখ্যক তরুণ জড়িত। তারা প্রতিদিন বিভিন্ন AI টুল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। আইনি সুরক্ষা না থাকলে তাদের কাজের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও স্পষ্ট আইনি নির্দেশিকা প্রয়োজন।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আইনকে স্থির না রেখে গতিশীল রাখতে হবে। তিনি আইন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দ্রুত এই বিষয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। ভবিষ্যতে AI-চালিত সেবা ও পণ্যের বিস্তার আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তথ্যমন্ত্রী।
সারাবাংলা টেক জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে আইন বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তারা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আইনি সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Sarabangla Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...