AI নীতিমালা না হলে শিক্ষার্থীদের চাকরি ঝুঁকিতে, বললেন চবি উপাচার্য
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেছেন, দেশে AI ব্যবহারের স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। এই নীতিমালা AI গ্রহণ ও শাসন ব্যবস্থাকে সুসংহত করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেছেন, দেশে AI ব্যবহারের স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। এই নীতিমালা AI গ্রহণ ও শাসন ব্যবস্থাকে সুসংহত করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেছেন, দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, এক অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিমত প্রকাশ করেন। উপাচার্য বলেন, AI যেভাবে দ্রুত আমাদের জীবন ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে, তাতে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকলে এর সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
এই নীতিমালা শুধু প্রযুক্তি খাত নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রশাসনসহ সব ক্ষেত্রে AI-এর ব্যবহারকে গতিশীল করবে বলে তিনি মনে করেন। উপাচার্য আরও বলেন, একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা AI-এর নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ AI নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে, যা বাংলাদেশের জন্যও একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো কম্পিউটার সিস্টেমের এমন একটি ক্ষমতা, যা মানুষের মতো চিন্তা ও কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ভাষা বোঝা, ছবি চেনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো জটিল কাজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে AI নীতিমালা তৈরি হয়েছে, যেখানে এর ব্যবহারের নিয়ম, নৈতিকতা এবং গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়গুলো নির্ধারণ করা আছে। বাংলাদেশেও এখন এই ধরনের নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি হলে AI খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে। এর ফলে দেশের তরুণ ডেভেলপার ও ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য AI-ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাও সহজ হবে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে AI ব্যবহার শুরু হয়েছে, কিন্তু একটি সমন্বিত নীতিমালার অভাবে সেগুলোতে ধারাবাহিকতা নেই।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে AI নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে। দেশের ১০ লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সার এবং অসংখ্য স্টার্টআপ AI ব্যবহার করে নতুন সেবা তৈরি করছে। একটি স্পষ্ট নীতিমালা তাদের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে এবং ব্যবহারকারীদের জন্যও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া সরকারি সেবায় AI ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই নীতিমালা সহায়ক হবে।
উপাচার্যের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, সময়মতো এই নীতিমালা প্রণয়ন করা গেলে বাংলাদেশ AI খাতে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে। তবে শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না, এর সঠিক বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
সবশেষে উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। একটি সুনির্দিষ্ট AI নীতিমালা দেশের প্রযুক্তি খাতকে আরও এগিয়ে নেবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করবে বলে তিনি মনে করেন।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews BD-AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...