AI ল্যাবে চাকরির নতুন সুযোগ: রোবট শেখাতে মানবশ্রমিক লাগবে বাংলাদেশেও
ফিজিক্যাল এআই-এর উন্নয়নে রোবট প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ ডেটা। কিন্তু এই ডেটা সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন ও নোংরা কাজ। কিছু এআই ল্যাব ইতিমধ্যেই XDOF পদ্ধতিতে মানবশ্রমিক নিয়োগ দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে।
ফিজিক্যাল এআই-এর উন্নয়নে রোবট প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ ডেটা। কিন্তু এই ডেটা সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন ও নোংরা কাজ। কিছু এআই ল্যাব ইতিমধ্যেই XDOF পদ্ধতিতে মানবশ্রমিক নিয়োগ দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে।
ফিজিক্যাল এআই যদি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের (LLM) সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে চায়, তবে একটি বড় ডেটা সমস্যা সমাধান করতে হবে। TechCrunch-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোবট প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সংগ্রহ করা অত্যন্ত নোংরা ও ক্লান্তিকর কাজ। কিছু এআই ল্যাব ইতিমধ্যেই এই কাজের জন্য XDOF পদ্ধতিতে মানবশ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে।
XDOF মানে হলো ছয় ডিগ্রি অফ ফ্রিডম। এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে একজন মানুষ একটি বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোবটের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে। এই পদ্ধতিতে মানুষ সরাসরি রোবটের হাত বা পা নড়াচড়া করিয়ে দেয়। ফলে রোবট শিখতে পারে কীভাবে বস্তু তুলতে হয় বা দরজা খুলতে হয়।
এআই ল্যাবগুলোর জন্য এই কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফিজিক্যাল এআই-এর সাফল্য নির্ভর করে রিয়েল-ওয়ার্ল্ড ডেটার ওপর। কিন্তু এই ডেটা সংগ্রহ করতে গিয়ে শ্রমিকদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কাজটি যেমন শারীরিকভাবে কঠিন, তেমনি মানসিকভাবেও ক্লান্তিকর।
TechCrunch-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কাজের জন্য শ্রমিকদের ঘণ্টায় মাত্র ৫ থেকে ১০ ডলার দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজের পরিবেশও ভালো নয়। শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে থাকতে হয়। একই কাজ বারবার করতে করতে তারা মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবর অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ের একটি বড় বাজার রয়েছে। অনেক তরুণ-তরুণী ইতিমধ্যেই ডেটা এন্ট্রি বা ইমেজ লেবেলিংয়ের মতো কাজ করছে। এখন যদি ফিজিক্যাল এআই-এর জন্য ডেটা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়, তবে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা এর সুযোগ নিতে পারে।
তবে এই কাজের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে। XDOF ডিভাইস ব্যবহার করতে জানতে হবে। সেই সঙ্গে কাজটি যে অত্যন্ত কঠিন ও ক্লান্তিকর, সেটাও মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের জন্য এটি একটি নতুন ক্যারিয়ার পথ খুলে দিতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিজিক্যাল এআই-এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ গড়তে হলে ডেটা সংগ্রহের এই সমস্যা সমাধান করতে হবে। এআই ল্যাবগুলো ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। XDOF পদ্ধতি তার মধ্যে একটি।
ভবিষ্যতে আরও উন্নত পদ্ধতি আসতে পারে। কিন্তু আপাতত এই নোংরা কাজটিই ফিজিক্যাল এআই-এর ভিত্তি তৈরি করছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সুযোগ হতে পারে। তবে সেই সুযোগ নিতে হলে প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: TechCrunch AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...