AI কি সত্যিকারের বিজ্ঞান করতে পারে? টুরিং পুরস্কার বিজয়ীর জবাব শুনলে চমকে যাবেন
টুরিং অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী রিচার্ড সাটন বলেছেন, বিশুদ্ধ জেনারেটিভ AI নিজের ফলাফল মূল্যায়ন করতে পারে না। ফলে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার অসম্ভব হয়ে পড়ে। আলফাগো বা আলফাপ্রুফের মতো সিস্টেম দেখায় যে শুধুমাত্র অন্তর্নির্মিত মূল্যায়ন লুপ AI-কে সত্যিকারের সৃজনশীল করে তোলে।
টুরিং অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী রিচার্ড সাটন বলেছেন, বিশুদ্ধ জেনারেটিভ AI নিজের ফলাফল মূল্যায়ন করতে পারে না। ফলে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার অসম্ভব হয়ে পড়ে। আলফাগো বা আলফাপ্রুফের মতো সিস্টেম দেখায় যে শুধুমাত্র অন্তর্নির্মিত মূল্যায়ন লুপ AI-কে সত্যিকারের সৃজনশীল করে তোলে।
টুরিং অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী রিচার্ড সাটন একটি গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশুদ্ধ জেনারেটিভ AI নিজের তৈরি ফলাফল মূল্যায়ন করতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সম্ভব নয়। দ্যা ডিকোডার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
সাটনের মতে, জেনারেটিভ AI-তে মূল্যায়ন লুপ না থাকায় নতুনত্ব ক্ষণিকের জন্য দেখা দেয় এবং আবার হারিয়ে যায়। এই সিস্টেমগুলো কেবল তথ্য তৈরি করতে পারে কিন্তু সেটি সঠিক কিনা বিচার করতে অক্ষম। ফলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ধাপ অর্থাৎ পরীক্ষা ও যাচাই বাদ পড়ে যায়।
তিনি আলফাগো এবং আলফাপ্রুফের উদাহরণ দিয়েছেন। এই সিস্টেমগুলোতে অন্তর্নির্মিত মূল্যায়ন লুপ রয়েছে। আলফাগো প্রতিটি চাল নিজেই মূল্যায়ন করে শিখেছে। আলফাপ্রুফ গাণিতিক প্রমাণ যাচাই করতে পারে। সাটনের ভাষায়, এই ধরনের সিস্টেমই সত্যিকারের সৃজনশীলতা দেখাতে সক্ষম।
বিজ্ঞানের জন্য মূল্যায়ন অপরিহার্য। একটি হাইপোথিসিস তৈরি করার পরে সেটি পরীক্ষা করে দেখতে হয়। জেনারেটিভ AI শুধু হাইপোথিসিস তৈরি করতে পারে কিন্তু পরীক্ষা করতে পারে না। সাটন বলেছেন, এই কারণেই বিশুদ্ধ জেনারেটিভ AI দিয়ে আসল বিজ্ঞান করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও AI গবেষকদের জন্য এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ। দেশে জেনারেটিভ AI নিয়ে অনেক স্টার্টআপ কাজ করছে। তারা চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য মডেল ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করছে। কিন্তু সাটনের মতে, প্রকৃত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের জন্য শুধু জেনারেটিভ AI যথেষ্ট নয়। মূল্যায়ন সিস্টেম যুক্ত করতে হবে।
ফ্রিল্যান্সার ও ডেভেলপারদের জন্য এর মানে হলো, AI প্রজেক্টে শুধু আউটপুট তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। সেই আউটপুটের গুণগত মান যাচাই করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি শিক্ষণীয় বিষয় যে, AI ব্যবহার করে গবেষণা করতে হলে মূল্যায়ন পদ্ধতি বোঝা জরুরি।
সাটনের এই বক্তব্য AI গবেষণার ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে AI সিস্টেমগুলোতে মূল্যায়ন লুপ যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হবে। শুধু তথ্য তৈরি নয়, সেই তথ্যের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করার ক্ষমতা AI-র থাকতে হবে। তবেই AI প্রকৃত বৈজ্ঞানিক সহায়ক হয়ে উঠতে পারবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: The Decoder
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...