AI এখন সাধারণ টিস্যু পরীক্ষাতেই ক্যান্সার শনাক্ত করবে, চিকিৎসা হবে দ্রুত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন হাসপাতালের সাধারণ টিস্যু পরীক্ষা থেকেই কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের একটি জটিল বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারে। একটি নতুন মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পদ্ধতি রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা দ্রুত ও নির্ভুল করতে সাহায্য করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন হাসপাতালের সাধারণ টিস্যু পরীক্ষা থেকেই কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের একটি জটিল বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারে। একটি নতুন মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পদ্ধতি রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা দ্রুত ও নির্ভুল করতে সাহায্য করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ নির্ণয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একটি নতুন পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, AI মডেলগুলো সাধারণ H&E-stained টিস্যু স্লাইড থেকেই মাইক্রোস্যাটেলাইট ইনস্টেবিলিটি (MSI) শনাক্ত করতে পারে। এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Cureus নামের একটি পিয়ার-রিভিউড মেডিকেল জার্নালে।
গবেষণাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ মাইক্রোস্যাটেলাইট ইনস্টেবিলিটি কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বায়োমার্কার। এটি রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণে ডাক্তারদের সাহায্য করে। বিশেষ করে ইমিউনোথেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসায় MSI-এর উপস্থিতি একটি বড় ভূমিকা রাখে। আগে এই তথ্য পেতে জিনগত পরীক্ষার প্রয়োজন হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
এই গবেষণায় গবেষকরা ১২টি পৃথক গবেষণার তথ্য একত্র করে বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখেছেন, AI মডেলগুলো H&E-stained টিস্যু স্লাইড থেকে MSI শনাক্ত করতে গড়ে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ নির্ভুলতা দেখিয়েছে। কিছু মডেল আরও বেশি নির্ভুল ছিল। এর মানে হলো, AI সাধারণ প্যাথলজি টিস্যু পরীক্ষা থেকেই জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে দেখলে, এই AI মডেলগুলোকে ডিপ লার্নিং অ্যালগরিদম দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা হাজার হাজার টিস্যু ইমেজ থেকে প্যাটার্ন শিখেছে। এই প্যাটার্নগুলো মানুষের চোখে ধরা পড়ে না। গবেষকরা বলছেন, এই পদ্ধতি প্যাথলজিস্টদের কাজের চাপ কমাতে পারে এবং রোগ নির্ণয়ের গতি বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণার গুরুত্ব অনেক। দেশে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে বিশেষায়িত জিনগত পরীক্ষার সুযোগ সীমিত। AI-ভিত্তিক এই পদ্ধতি যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে সাধারণ হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাব থেকেই রোগীদের দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ডেভেলপার ও গবেষকরাও এই ক্ষেত্রে কাজ করতে পারেন।
গবেষকরা এখন AI মডেলের নির্ভুলতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তারা বড় ও ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর ডেটা ব্যবহার করে মডেলগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চান। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি নিয়মিত ক্লিনিকাল প্র্যাকটিসে ব্যবহার হতে পারে। তাহলে ক্যান্সার রোগীদের জন্য চিকিৎসা আরও ব্যক্তিগতকৃত ও কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...