AI এখন কোলোরেক্টাল ক্যান্সার শনাক্তে ৯৫% নির্ভুল, বাঁচতে পারে হাজারো প্রাণ
একটি নতুন সিস্টেম্যাটিক রিভিউ ও মেটা-অ্যানালাইসিস দেখিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মডেল কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের টিস্যু পরীক্ষা করে মাইক্রোস্যাটেলাইট অস্থিরতা (MSI) শনাক্ত করতে অত্যন্ত নির্ভুল। গবেষণাটি Cureus জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে AI-র সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
একটি নতুন সিস্টেম্যাটিক রিভিউ ও মেটা-অ্যানালাইসিস দেখিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মডেল কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের টিস্যু পরীক্ষা করে মাইক্রোস্যাটেলাইট অস্থিরতা (MSI) শনাক্ত করতে অত্যন্ত নির্ভুল। গবেষণাটি Cureus জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে AI-র সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
কোলোরেক্টাল ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী অন্যতম মারাত্মক ক্যান্সার। এই ক্যান্সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনগত বৈশিষ্ট্য হলো মাইক্রোস্যাটেলাইট অস্থিরতা (MSI)। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এই MSI শনাক্ত করতে পারে শুধুমাত্র সাধারণ টিস্যু স্লাইড দেখে। একটি নতুন সিস্টেম্যাটিক রিভিউ এবং মেটা-অ্যানালাইসিস এই বিষয়টির ওপর আলোকপাত করেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Cureus নামের একটি উন্মুক্ত চিকিৎসা জার্নালে।
গবেষকরা AI মডেলের ডায়াগনস্টিক নির্ভুলতা এবং ক্লিনিকাল ব্যবহারের সম্ভাবনা পরীক্ষা করেছেন। তারা হেমাটক্সিলিন এবং ইওসিন (H&E) দিয়ে রাঙানো হিস্টোপ্যাথোলজি স্লাইড ব্যবহার করেছেন। এই পদ্ধতিতে ক্যান্সার টিস্যুর নমুনা নেওয়া হয় এবং মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা হয়। AI মডেলগুলি সেই ছবি বিশ্লেষণ করে MSI-এর উপস্থিতি শনাক্ত করে। এই পদ্ধতি প্রচলিত জিনগত পরীক্ষার তুলনায় অনেক সস্তা এবং দ্রুত।
পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোতে AI ব্যবহার করে MSI শনাক্তকরণের সম্ভাবনা দেখা গেলেও এটি ছিল বিক্ষিপ্ত। এই নতুন মেটা-অ্যানালাইসিসটি একাধিক গবেষণার ফলাফল একত্রিত করেছে। এর ফলে AI-র কার্যকারিতা সম্পর্কে একটি শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, AI মডেলগুলি MSI শনাক্ত করতে অত্যন্ত উচ্চ সংবেদনশীলতা এবং নির্দিষ্টতা প্রদর্শন করে। এর মানে হলো AI খুব কম ভুল করে সঠিক রোগী শনাক্ত করতে পারে।
এই গবেষণার ফলাফল বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের হার বাড়ছে। কিন্তু জিনগত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে। AI-ভিত্তিক এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সাধারণ প্যাথলজি ল্যাব থেকেই MSI শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে করে রোগ নির্ণয়ের সময় এবং খরচ দুটোই কমবে। বাংলাদেশের চিকিৎসক এবং গবেষকরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীদের আরও ভালো সেবা দিতে পারবেন।
ভবিষ্যতে AI মডেলগুলিকে আরও উন্নত করা সম্ভব। গবেষকরা আরও বড় এবং বৈচিত্র্যময় ডেটাসেট নিয়ে কাজ করছেন। এই প্রযুক্তি একদিন রুটিন প্যাথলজি পরীক্ষার অংশ হয়ে যেতে পারে। AI শুধু ক্যান্সার নির্ণয়েই নয়, চিকিৎসার ফলাফল পূর্বাভাস দিতেও সাহায্য করবে। এই গবেষণা সেই পথেই একটি বড় পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...