AI এখন বলে দেবে আপনার জিন অনুযায়ী ঠিক কী খাবেন, জানুন কীভাবে
বিজ্ঞানীরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ব্যক্তির জিন, মাইক্রোবায়োম ও জীবনযাত্রার ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্ভুল পুষ্টি পরামর্শ দিতে সক্ষম হচ্ছেন। Nature-এ প্রকাশিত এই গবেষণা স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ব্যক্তির জিন, মাইক্রোবায়োম ও জীবনযাত্রার ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্ভুল পুষ্টি পরামর্শ দিতে সক্ষম হচ্ছেন। Nature-এ প্রকাশিত এই গবেষণা স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞান সাময়িকী Nature-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মেশিন লার্নিং (ML) প্রযুক্তি এখন নির্ভুল পুষ্টি বা প্রিসিশন নিউট্রিশনের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। এই প্রযুক্তি মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্য, অন্ত্রের অণুজীব (মাইক্রোবায়োম) এবং জীবনযাত্রার অভ্যাস বিশ্লেষণ করে ব্যক্তির জন্য উপযোগী খাদ্যতালিকা তৈরি করতে পারে।
গবেষণাটি Nature-এ প্রকাশিত হওয়ায় এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব অত্যন্ত উচ্চ। গবেষকরা বলছেন, বর্তমান যুগে একই খাদ্য পরামর্শ সবার জন্য কাজ করে না। বরং প্রতিটি মানুষের শরীরের জিন, বিপাকক্রিয়া এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ধরন ভিন্ন হওয়ায় পুষ্টির চাহিদাও ভিন্ন হয়। AI ও ML এই জটিল ডেটা বিশ্লেষণ করে দ্রুত এবং নির্ভুল সুপারিশ দিতে পারে।
প্রযুক্তিগতভাবে এই পদ্ধতি কাজ করে বেশ কয়েকটি স্তরে। প্রথমে ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা, ডিএনএ সিকোয়েন্সিং এবং মাইক্রোবায়োম বিশ্লেষণ থেকে বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করা হয়। এরপর মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম সেই ডেটা থেকে প্যাটার্ন শনাক্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তির জিনে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে সিস্টেম তা চিহ্নিত করে দুগ্ধজাত খাবার এড়ানোর পরামর্শ দেয়। একইভাবে রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের সময় ও পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়।
আগের চেয়ে এই পদ্ধতি ৩ গুণ বেশি নির্ভুল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রচলিত পুষ্টি নির্দেশিকা সাধারণ জনগণের গড় ডেটার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। কিন্তু প্রিসিশন নিউট্রিশন ব্যক্তির নির্দিষ্ট জৈবিক তথ্য ব্যবহার করে, ফলে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের মতো ক্রনিক রোগ প্রতিরোধে এটি বেশি কার্যকর।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশে ডায়াবেটিস ও স্থূলতা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। AI-চালিত প্রিসিশন নিউট্রিশন এখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ডেটা সেন্টার, জিনোম সিকোয়েন্সিং সুবিধা এবং স্বাস্থ্যসেবায় AI-র ব্যবহার বৃদ্ধি। বাংলাদেশের স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ক্ষেত্রে কাজ শুরু করতে পারে।
ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি স্মার্টফোন অ্যাপ ও ওয়্যারেবল ডিভাইসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতেও পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন কেউ নিজের ফোনে কয়েকটি তথ্য দিলেই তার জন্য ব্যক্তিগতকৃত খাদ্যতালিকা তৈরি হয়ে যাবে। Nature-এর এই গবেষণা সেই ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপন করল।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...