AI এজেন্টের বিদ্যুৎ খরচ চ্যাটবটের চেয়ে ১৩৬ গুণ বেশি, জানুন কী প্রভাব ফেলবে বাংলাদেশে
দক্ষিণ কোরিয়ার KAIST-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, AI এজেন্টরা প্রতি রিকোয়েস্টে গড়ে ৩৪৮ ওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুৎ খরচ করে, যা চ্যাটবটের তুলনায় ১৩৬ গুণ বেশি। এই বিপুল শক্তি ব্যবহার বিশ্বের বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার KAIST-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, AI এজেন্টরা প্রতি রিকোয়েস্টে গড়ে ৩৪৮ ওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুৎ খরচ করে, যা চ্যাটবটের তুলনায় ১৩৬ গুণ বেশি। এই বিপুল শক্তি ব্যবহার বিশ্বের বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে AI এজেন্টরা নতুন বিপ্লব ঘটালেও তাদের বিদ্যুৎ খরচ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (KAIST) এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, AI এজেন্টরা সাধারণ চ্যাটবটের চেয়ে ১৩৬ দশমিক ৫ গুণ বেশি শক্তি ব্যবহার করে। এই গবেষণাটি প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, একটি AI এজেন্টের প্রতিটি অনুরোধ বা রিকোয়েস্ট প্রক্রিয়াকরণে গড়ে ৩৪৮ দশমিক ৪১ ওয়াট-ঘন্টা (Wh) বিদ্যুৎ খরচ হয়। তুলনামূলকভাবে, একটি সাধারণ চ্যাটবট যেমন ChatGPT-এর একটি রিকোয়েস্টে মাত্র ২ দশমিক ৫৫ ওয়াট-ঘন্টা শক্তি লাগে। এই বিশাল পার্থক্য AI প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
AI এজেন্টরা কেন এত বেশি শক্তি খরচ করে তার মূল কারণ তাদের জটিল কার্যপ্রণালী। চ্যাটবট সাধারণত একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়। কিন্তু AI এজেন্টরা একাধিক কাজ একসঙ্গে করতে পারে। তারা তথ্য অনুসন্ধান করে, বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে, কোড রান করে এবং দীর্ঘ ধাপে ধাপে পরিকল্পনা তৈরি করে। এই প্রতিটি কাজের জন্য প্রচুর কম্পিউটেশনাল শক্তি প্রয়োজন হয়, যা GPU-র মতো শক্তিশালী হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল। KAIST-এর গবেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে AI এজেন্টের ব্যবহার যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তাহলে তা বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর অসহনীয় চাপ ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ এবং ডেভেলপাররা দিন দিন বেশি করে AI টুল ব্যবহার করছে। AI এজেন্টদের যদি ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো হয়, তাহলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বিদ্যুৎ বিল এবং সার্ভার খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা এবং ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি আর্থিক বোঝা তৈরি করবে। তবে এই চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি একটি সুযোগও রয়েছে। বাংলাদেশের প্রকৌশলী এবং গবেষকরা আরও শক্তি-সাশ্রয়ী AI মডেল তৈরিতে মনোযোগ দিতে পারেন।
গবেষকরা বলছেন, AI এজেন্টের শক্তি খরচ কমানোর জন্য নতুন কৌশল উদ্ভাবন করা জরুরি। আরও কার্যকরী অ্যালগরিদম তৈরি করা, কম শক্তিসম্পন্ন হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে লোড ভারসাম্য রাখা সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে। প্রযুক্তি জায়ান্টরা ইতিমধ্যে এই সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে AI এজেন্টদের আরও পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী করে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Daily Star Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...