১৫ মিনিটেই আপনার ছবি থেকে নকল ভিডিও বানানো সম্ভব, সতর্ক করল ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি সতর্ক করেছে যে সাধারণ সামাজিক মাধ্যমের ছবি থেকে AI ডিপফেক তৈরি করতে এখন মাত্র ১৫ মিনিট সময় লাগে। এই নতুন হুমকি মডেল ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি সতর্ক করেছে যে সাধারণ সামাজিক মাধ্যমের ছবি থেকে AI ডিপফেক তৈরি করতে এখন মাত্র ১৫ মিনিট সময় লাগে। এই নতুন হুমকি মডেল ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA) একটি উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, AI ডিপফেক তৈরির প্রক্রিয়া এতটাই সহজ হয়ে গেছে যে কেউ আপনার সন্তানের জন্মদিনের একটি সাধারণ ছবি পেলেই মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত নকল ভিডিও তৈরি করতে পারে। এই প্রতিবেদনটি dev.to ML প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
এই খবর কম্পিউটার ভিশন এবং বায়োমেট্রিক্স শিল্পের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। এখন পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা ধরে নিয়েছিলেন যে উচ্চমানের ফেসিয়াল মডেলিংয়ের জন্য প্রচুর কম্পিউটিং শক্তি এবং বিশাল ডেটাসেট প্রয়োজন। কিন্তু নতুন এই প্রযুক্তি সেই ধারণা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে। এখন যে কেউ সাধারণ GPU ব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যে ডিপফেক তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে দেখলে, এই ডিপফেক তৈরির জন্য খুব বেশি কিছু লাগে না। শুধু একটি সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে কয়েকটি ছবি সংগ্রহ করাই যথেষ্ট। AI মডেল সেই ছবি থেকে মুখের গঠন, অভিব্যক্তি এবং নড়াচড়া শিখে ফেলে। এরপর এটি একটি বাস্তব ভিডিওর মতো দেখতে নকল কন্টেন্ট তৈরি করে। গবেষকরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় আগের চেয়ে ৩০০ গুণ কম ডেটা ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম এবং টিকটকের মতো সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার ব্যাপক। সাধারণ মানুষ তাদের ব্যক্তিগত ছবি এবং সন্তানদের ছবি সহজেই পাবলিকলি শেয়ার করে। এই অভ্যাস এখন একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। সাইবার অপরাধীরা এই ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, জালিয়াতি এবং প্রতারণা করতে পারে।
বাংলাদেশের ডেভেলপার এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই খবর একটি জাগরণের মতো। তাদের এমন সিস্টেম তৈরি করতে হবে যা ডিপফেক শনাক্ত করতে পারে। একইসঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হতে হবে। নিজের এবং পরিবারের ছবি অনলাইনে পোস্ট করার আগে কয়েকবার ভাবা উচিত। প্রাইভেসি সেটিংস কঠোর করা এবং অপরিচিতদের সঙ্গে ছবি শেয়ার না করাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ।
এই নতুন হুমকি মোকাবিলায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমগুলোর আপডেট প্রয়োজন যাতে তারা ডিপফেক শনাক্ত করতে পারে। সরকারকেও সাইবার নিরাপত্তা আইন শক্তিশালী করতে হবে। ভবিষ্যতে ডিপফেক শনাক্ত করার টুল এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to ML
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...