যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে AI ব্যবহারে শঙ্কা, বাংলাদেশের চিকিৎসায় প্রভাব ফেলতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স বিভাগের চিকিৎসকরা তদারকি ছাড়াই জেনারেটিভ AI ব্যবহারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। একটি ওয়াচডগ প্রতিবেদনে এই ঘটনা প্রকাশ করে AI শাসন ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স বিভাগের চিকিৎসকরা তদারকি ছাড়াই জেনারেটিভ AI ব্যবহারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। একটি ওয়াচডগ প্রতিবেদনে এই ঘটনা প্রকাশ করে AI শাসন ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স বিভাগের (VA) ক্লিনিক্যাল কর্মীরা প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ও যথাযথ তদারকি ছাড়াই জেনারেটিভ AI টুল ব্যবহার শুরু করেছেন। একটি ওয়াচডগ সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ফেডস্কুপ জানিয়েছে, এই ঘটনা স্বাস্থ্যসেবায় AI ব্যবহারের শাসন ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ওয়াচডগ রিপোর্টে বলা হয়েছে, VA-র ক্লিনিক্যাল স্টাফরা দ্রুত জেনারেটিভ AI ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু এই প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য কোনো স্পষ্ট নীতি বা তদারকি ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে রোগীর তথ্যের গোপনীয়তা ও চিকিৎসার সঠিকতা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবায় AI ব্যবহারের আগে কঠোর পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, VA-র বিভিন্ন শাখায় কর্মীরা রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং প্রশাসনিক কাজে AI ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু এই ব্যবহারের কোনো কেন্দ্রীয় নথিপত্র বা অনুমোদন প্রক্রিয়া ছিল না। ওয়াচডগ সংস্থাটি বলেছে, এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রোগীর ক্ষতি করতে পারে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান কমিয়ে দিতে পারে।
এই ঘটনা শুধু VA-তেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য খাতে AI-র ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানেই প্রযুক্তি গ্রহণের গতি নীতি নির্ধারণের চেয়ে অনেক দ্রুত। ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এই প্রতিষ্ঠানে AI-র অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পুরো সিস্টেমের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটালাইজেশন বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড ও AI-ভিত্তিক ডায়াগনস্টিক টুল ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত নীতি ও তদারকি ব্যবস্থা আছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উচিত AI ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করা।
ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবায় AI-র ভূমিকা আরও বাড়বে। কিন্তু এই প্রযুক্তি রোগীর নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করে ব্যবহার করতে হবে। ওয়াচডগ রিপোর্টটি একটি সতর্কবার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তি গ্রহণের গতি যত দ্রুতই হোক না কেন, নীতি ও তদারকি ব্যবস্থা সবসময় আগে থাকা উচিত।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Tools
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...