যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি চাকরি ছাঁটাই বাড়ছে, AI বিনিয়োগই কারণ
মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রায় দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাকরি ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের মূল কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-তে ব্যয় বৃদ্ধি।
মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রায় দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাকরি ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের মূল কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-তে ব্যয় বৃদ্ধি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে চাকরি ছাঁটাইয়ের ধারা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ব্লুমবার্গ টেকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে দেশটির টেক কোম্পানিগুলো প্রায় দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চাকরি ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-তে ব্যয় বৃদ্ধি।
প্রযুক্তি খাতের এই পরিবর্তন শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কোম্পানিগুলো যখন AI-তে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, তখন তারা অন্যান্য খাতে খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে যে চাকরিগুলোকে এখন অপ্রয়োজনীয় মনে করা হচ্ছে, সেগুলোতেই ছাঁটাইয়ের কোপ পড়ছে।
এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়। গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, বড় বড় টেক কোম্পানিগুলো তাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে AI-কে বেছে নিচ্ছে। তারা চ্যাটজিপিটি, জেমিনির মতো মডেল তৈরিতে এবং ডেটা সেন্টার, জিপিইউ বা গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটের মতো অবকাঠামোতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই বিনিয়োগের জোগান দিতেই তারা অন্যান্য বিভাগে কর্মী সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেলকেই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। আগে যেখানে নতুন পণ্য বা ফিচার আনতে বেশি লোকবল লাগত, এখন সেখানে AI স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেক কাজ করে দিচ্ছে। ফলে কিছু নির্দিষ্ট ভূমিকা, বিশেষ করে প্রশাসনিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাহিদা কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই খবর অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশের ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার ডেভেলপার এবং প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে যে বিশ্বব্যাপী চাহিদা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যে দক্ষতা আজ মূল্যবান, তা হয়তো দুই বছর পর আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না। তাই AI-তে দক্ষতা অর্জন করা এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের আইটি খাতের কোম্পানিগুলোকেও তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে AI-কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ভবিষ্যতে এই ধারা আরও তীব্র হতে পারে। প্রযুক্তি খাতে চাকরি ছাঁটাইয়ের এই ঢেউ শুধু শুরু মাত্র। যেসব কোম্পানি AI-তে বিনিয়োগ করবে না, তারা বাজার থেকে পিছিয়ে পড়বে। আর যেসব কর্মী AI-কে নিজের কাজের অংশ হিসেবে গ্রহণ করবে, তারাই টিকে থাকবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Bloomberg Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...