যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবীদের AI ব্যবহারে গোপন তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি, বাংলাদেশে সতর্কতা জরুরি
যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা কাজে AI টুল ব্যবহার করছেন। কিন্তু এতে ক্লায়েন্টের গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনজীবীদের সতর্ক না হলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা কাজে AI টুল ব্যবহার করছেন। কিন্তু এতে ক্লায়েন্টের গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনজীবীদের সতর্ক না হলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) টুলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্লায়েন্টের গোপনীয় তথ্য সুরক্ষিত থাকবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। plansponsor নামক একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আইনজীবীরা যখন কাজের জন্য AI টুল ব্যবহার করেন, তখন অ্যাটর্নি-ক্লায়েন্ট প্রিভিলেজ বা আইনজীবী-মক্কেল গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
AI টুল যেমন ChatGPT বা অন্যান্য ভাষার মডেল ব্যবহার করে আইনজীবীরা মামলার খসড়া তৈরি করছেন। তারা আইনি গবেষণা করছেন এবং নথি বিশ্লেষণ করছেন। কিন্তু এই টুলগুলোতে তথ্য পাঠানোর অর্থ হলো সেই তথ্য তৃতীয় পক্ষের সার্ভারে সংরক্ষিত হচ্ছে। এর ফলে ক্লায়েন্টের গোপন তথ্য ফাঁস হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক আইনজীবী বুঝতে পারছেন না যে AI টুল ব্যবহারের ঝুঁকি কতটা বড়। একটি AI টুলে ক্লায়েন্টের নাম, মামলার বিবরণ বা সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া হলে সেই তথ্য অন্য ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যবহার হতে পারে। এটি সরাসরি অ্যাটর্নি-ক্লায়েন্ট প্রিভিলেজের লঙ্ঘন।
যুক্তরাষ্ট্রের বার অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা আইনজীবীদের বলেছে, AI টুল ব্যবহারের আগে অবশ্যই বুঝতে হবে কীভাবে তথ্য সুরক্ষিত থাকে। কিছু টুল আছে যেগুলো ডেটা এনক্রিপ্ট করে। কিন্তু সব টুল সমান নিরাপদ নয়।
বাংলাদেশের আইন পেশায় এখনো AI টুলের ব্যবহার খুবই সীমিত। কিন্তু দেশের তরুণ আইনজীবী এবং আইন শিক্ষার্থীরা এই প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহী হচ্ছেন। ফ্রিল্যান্সার আইনজীবীরা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করতে AI ব্যবহার করছেন। তাদের জন্য ঝুঁকি বোঝা জরুরি।
একজন বাংলাদেশি আইনজীবী যদি ChatGPT-তে একটি ক্লায়েন্টের মামলার বিবরণ টাইপ করেন, তাহলে সেই তথ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্ভারে সংরক্ষিত হবে। বাংলাদেশের আইনে এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে আইনজীবীদের নিজেদেরই সতর্ক হতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আইনজীবীদের উচিত শুধুমাত্র এন্টারপ্রাইজ-গ্রেডের AI টুল ব্যবহার করা। যেখানে ডেটা এনক্রিপ্ট করা থাকে এবং তৃতীয় পক্ষের সাথে শেয়ার করা হয় না। এছাড়া ক্লায়েন্টের অনুমতি নিয়েই AI ব্যবহার করা উচিত।
ভবিষ্যতে AI টুল আরও উন্নত হবে। কিন্তু আইন পেশায় গোপনীয়তার গুরুত্ব কখনো কমবে না। আইনজীবীদের এখনই সতর্ক না হলে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Tools
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...