UNESCO গবেষণা: বাংলাদেশের নারীদের ওপর AI-এর প্রভাব জানাবে
UNESCO দক্ষিণ এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালু করেছে। এই গবেষণা বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি নারী ও মেয়েদের ওপর AI-এর প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।
UNESCO দক্ষিণ এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালু করেছে। এই গবেষণা বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি নারী ও মেয়েদের ওপর AI-এর প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।
ইউনেস্কো দক্ষিণ এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে একটি নতুন গবেষণা শুরু করেছে। এই গবেষণার নাম Outlook Study on Artificial Intelligence and Gender in South Asia। ইউনেস্কো এই গবেষণার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে AI প্রযুক্তি কীভাবে নারী ও মেয়েদের জীবনকে প্রভাবিত করছে তা খতিয়ে দেখবে।
এই গবেষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বর্তমানে AI প্রযুক্তি দ্রুতগতিতে আমাদের সমাজে প্রবেশ করছে। কিন্তু এই প্রযুক্তি নারী ও পুরুষের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইউনেস্কো এই গবেষণার মাধ্যমে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে।
ইউনেস্কোর মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় AI প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও এতে লিঙ্গ বৈষম্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে AI অ্যালগরিদম নারীদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, চাকরির আবেদন筛选 করার সময় বা ঋণ অনুমোদনের সময় AI সিস্টেম নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করতে পারে।
এই গবেষণা দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশকে কভার করবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তান রয়েছে। গবেষকরা প্রতিটি দেশে AI প্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা এবং নারীদের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করবেন।
বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। কিন্তু AI প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে নারীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। এই গবেষণা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের AI সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নে সাহায্য করবে।
গবেষণার ফলাফল ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউনেস্কো এই গবেষণার মাধ্যমে একটি রোডম্যাপ তৈরি করবে যা দেশগুলোকে AI প্রযুক্তিতে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা খাতে AI-এর ব্যবহারে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার উপায় খুঁজবে এই গবেষণা।
ইউনেস্কোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, AI প্রযুক্তির উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে তা সমাজের জন্য আরও বেশি কল্যাণ বয়ে আনবে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
ভবিষ্যতে AI প্রযুক্তি আরও বেশি করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জড়িয়ে পড়বে। তাই এখন থেকেই এই প্রযুক্তিকে লিঙ্গ-সংবেদনশীল করে গড়ে তোলা জরুরি। ইউনেস্কোর এই গবেষণা সেই পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...