তেঁতুলের বীজে প্লাস্টিকমুক্ত পানি, বাংলাদেশেও সম্ভব সাশ্রয়ী সমাধান
তিন ভারতীয় পড়ুয়া তেঁতুলের বীজ ব্যবহার করে প্লাস্টিক অপসারণের প্রযুক্তি ‘প্লাস-স্টিক’ উদ্ভাবন করেছেন। এটি পানীয় জল থেকে প্লাস্টিক দূষণ দূর করতে সক্ষম একটি পরিবেশবান্ধব ও অভিনব আবিষ্কার।
তিন ভারতীয় পড়ুয়া তেঁতুলের বীজ ব্যবহার করে প্লাস্টিক অপসারণের প্রযুক্তি ‘প্লাস-স্টিক’ উদ্ভাবন করেছেন। এটি পানীয় জল থেকে প্লাস্টিক দূষণ দূর করতে সক্ষম একটি পরিবেশবান্ধব ও অভিনব আবিষ্কার।
তিন ভারতীয় পড়ুয়া বিবান ছওছারিয়া, আরিয়ানা আগরওয়াল এবং অভ্যানা মেহতা আবিষ্কার করে বসেছেন এমন এক অভিনব প্রযুক্তি, যার নাম তাঁরা রেখেছে ‘প্লাস-স্টিক’। এই প্রযুক্তি তেঁতুলের বীজ ব্যবহার করে পানীয় জল থেকে প্লাস্টিক দূষণ অপসারণ করতে সক্ষম। Sangbad Pratidin এই তথ্য জানিয়েছে।
পানীয় জলে প্লাস্টিকের মাইক্রোপার্টিকেল একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রযুক্তিগুলো ব্যয়বহুল ও জটিল। এই নতুন উদ্ভাবন পরিবেশবান্ধব এবং সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করায় এটি সবার জন্য কার্যকর হতে পারে।
‘প্লাস-স্টিক’ প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করে তা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, তেঁতুলের বীজের বিশেষ রাসায়নিক গঠন প্লাস্টিক কণাকে আকর্ষণ করে এবং জল থেকে আলাদা করে ফেলে। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে না। এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রাথমিক ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
তিন পড়ুয়া এই প্রকল্পটি একটি স্কুল বিজ্ঞান মেলার জন্য তৈরি করেছিলেন। পরে তারা বুঝতে পারেন, এই আবিষ্কার বাস্তব জগতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তারা এখন পেটেন্টের জন্য আবেদন করছেন এবং বড় পরিসরে পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
বাংলাদেশের জন্য এই আবিষ্কার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে পানীয় জলে প্লাস্টিক দূষণ একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে নদী ও জলাশয়ের পানি দূষিত হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্যে। ‘প্লাস-স্টিক’ প্রযুক্তি যদি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়, তাহলে বাংলাদেশের জল সংকট মোকাবিলায় এটি একটি সস্তা ও কার্যকর সমাধান হতে পারে। স্থানীয় গবেষক ও উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তি গ্রহণ করে দেশের পানীয় জলের মান উন্নত করতে পারেন।
এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, সাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েও বড় প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান সম্ভব। ভবিষ্যতে তেঁতুলের বীজের মতো আরও অনেক প্রাকৃতিক উপাদান প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় ব্যবহার করা যেতে পারে। ‘প্লাস-স্টিক’ প্রযুক্তি যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি বিশ্বব্যাপী পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Sangbad Pratidin
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...