সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিতে জিপিএস, স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন!
দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি ও কর্মস্থল মনিটর করতে জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি ও কর্মস্থল মনিটর করতে জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকারি ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শৃঙ্খলায় আনতে এবার জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং দায়িত্ব পালনের মান যাচাই করতে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এই প্রযুক্তি চালু হলে সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরতদের অবস্থান নিয়মিত মনিটর করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় কর্মী সংকট রয়েছে বা অনুপস্থিতির অভিযোগ বেশি, সেখানে জিপিএস ডেটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে রোগীরা সময়মতো সেবা পাবেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জিপিএস প্রযুক্তি মূলত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয় করে। এই তথ্য ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ে কে কর্মস্থলে আছেন, কে নেই তা সহজেই শনাক্ত করা যাবে। সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে অনেক দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে। বাংলাদেশেও ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছে সরকার।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রথমে কিছু পাইলট প্রকল্প চালানো হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে পুরো দেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে প্রযুক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিরও প্রয়োজন হবে বলে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। কারণ প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, মানুষের ইতিবাচক মনোভাব ছাড়া সফলতা মিলবে না।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে জিপিএস প্রযুক্তি চালু হলে সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাড়বে। এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কর্মীরা নিয়মিত থাকলে রোগীদের দূরপাল্লার ভ্রমণ কমবে। সাধারণ মানুষ দ্রুত ও স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা পাবে। এছাড়া জরুরি অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসক খুঁজে পেতেও এই প্রযুক্তি সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জিপিএস নয়, স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক ডিজিটালাইজেশন এখন সময়ের দাবি। অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট, রোগীর ডিজিটাল রেকর্ড ও টেলিমেডিসিনের মতো সেবা একসঙ্গে চালু করলে সরকারি স্বাস্থ্য খাত আরও গতিশীল হবে। এই খাতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে পর্যাপ্ত বাজেট ও জনবলও প্রয়োজন।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা করা যায়। তবে প্রযুক্তি প্রয়োগ যেন কোনো হয়রানির কারণ না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews প্রযুক্তি বাংলা
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...