পুরুষ গবেষকরা নারীদের চেয়ে দ্বিগুণ AI ব্যবহার করেন, আপনার ক্যারিয়ারে প্রভাব
Anthropic-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক বিজ্ঞানে পুরুষ গবেষকরা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি AI কোডিং এজেন্ট ব্যবহার করেন। অর্থনীতিবিদরা এগিয়ে থাকলেও শিক্ষা গবেষকদের ব্যবহার হার মাত্র ৪ শতাংশ। এই লিঙ্গ বৈষম্য সাধারণ AI ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি প্রকট।
Anthropic-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক বিজ্ঞানে পুরুষ গবেষকরা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি AI কোডিং এজেন্ট ব্যবহার করেন। অর্থনীতিবিদরা এগিয়ে থাকলেও শিক্ষা গবেষকদের ব্যবহার হার মাত্র ৪ শতাংশ। এই লিঙ্গ বৈষম্য সাধারণ AI ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি প্রকট।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) কোম্পানি Anthropic-এর নতুন এক গবেষণায় সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণায় লিঙ্গভিত্তিক একটি বড় বৈষম্য ধরা পড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ গবেষকরা নারী গবেষকদের তুলনায় AI কোডিং এজেন্ট দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবহার করেন। এই তথ্য প্রকাশ করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম The Decoder।
গবেষণাটি সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার উপর আলোকপাত করেছে। অর্থনীতিবিদরা AI কোডিং এজেন্ট ব্যবহারে সবার শীর্ষে রয়েছেন, যেখানে ব্যবহারের হার ৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে শিক্ষা গবেষকদের মধ্যে এই হার মাত্র ৪ শতাংশ। এই পার্থক্য শুধু শাখাভেদেই নয়, বরং একই পেশাগত স্তর ও বিষয়ের মধ্যেও স্পষ্ট।
Anthropic-এর গবেষকরা গবেষণাপত্রের লেখকের নামের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণ করে এই বিশ্লেষণ চালিয়েছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, সাধারণত পুরুষদের নামধারী গবেষকরা সাধারণ AI টুলের চেয়ে কোডিং এজেন্ট ব্যবহারে অনেক বেশি আগ্রহী। কোডিং এজেন্ট হলো বিশেষ ধরনের AI টুল যা প্রোগ্রামিং কোড লিখতে, ডিবাগ করতে এবং অপ্টিমাইজ করতে সাহায্য করে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কোডিং এজেন্ট ব্যবহারে লিঙ্গ বৈষম্যের মাত্রা সাধারণ AI টুল ব্যবহারের তুলনায় অনেক বেশি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাসের পার্থক্য এই ব্যবধানের পেছনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নারী গবেষকরা হয়তো কোডিংকে নিজেদের দক্ষতার বাইরে মনে করেন বা প্রযুক্তি গ্রহণে আরও সতর্ক থাকেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণার গুরুত্ব অনেক। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নারী গবেষকদের সংখ্যা বাড়লেও প্রযুক্তি ব্যবহারে এখনও পিছিয়ে থাকার প্রবণতা দেখা যায়। ফ্রিল্যান্সিং এবং স্টার্টআপ খাতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়লেও AI ও কোডিং টুল ব্যবহারে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি।
ভবিষ্যতে AI কোডিং এজেন্ট আরও সহজলভ্য এবং ব্যবহারবান্ধব হলে এই লিঙ্গ বৈষম্য কমতে পারে। তবে তার আগে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের নারী গবেষকদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। Anthropic-এর এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রযুক্তির অগ্রগতি শুধু যন্ত্রের উন্নয়ন নয়, বরং মানুষের অংশগ্রহণের সমতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: The Decoder
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...