পুরোনো ছবি এখন ভিডিও! Ziva Fotka-তে ফিরে পাবেন হারানো স্মৃতি
AI টুল Ziva Fotka এখন পুরোনো, স্ক্যান করা এবং কালো-সাদা ছবিকে জীবন্ত ভিডিওতে রূপ দিচ্ছে। 10,000-এর বেশি ছবির মধ্যে 40 শতাংশই ছিল পুরোনো বা কালো-সাদা। আসল চ্যালেঞ্জ কিন্তু অ্যানিমেশন নয়, বরং তার আগের প্রস্তুতি পর্ব।
AI টুল Ziva Fotka এখন পুরোনো, স্ক্যান করা এবং কালো-সাদা ছবিকে জীবন্ত ভিডিওতে রূপ দিচ্ছে। 10,000-এর বেশি ছবির মধ্যে 40 শতাংশই ছিল পুরোনো বা কালো-সাদা। আসল চ্যালেঞ্জ কিন্তু অ্যানিমেশন নয়, বরং তার আগের প্রস্তুতি পর্ব।
পুরোনো ছবিতে থাকা মুখগুলোকে নড়াচড়া করানোর কাজটি এখন AI-এর হাতে তুলে দিয়েছে নতুন একটি টুল। Inithouse নামের প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে Ziva Fotka, যা একটি স্থির ছবিকে কয়েক সেকেন্ডের জীবন্ত ভিডিওতে রূপান্তর করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই টুল দিয়ে এখন পর্যন্ত 10,000-এর বেশি ছবি অ্যানিমেট করা হয়েছে, আর তার মধ্যে প্রায় 40 শতাংশই ছিল পুরোনো, স্ক্যান করা বা কালো-সাদা ছবি।
এই পরিসংখ্যানটি প্রতিষ্ঠানটির জন্যই চমকের মতো ছিল, কারণ তারা ভেবেছিল মূল কাজটি হবে অ্যানিমেশন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, আসল ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জটি অ্যানিমেশন শুরুর আগের ধাপে লুকিয়ে আছে। Ziva Fotka-র মূল কাজ হলো একটি স্থির মুখের ছবি আপলোড করলে তা থেকে একটি ছোট ভিডিও তৈরি করে দেওয়া, যেখানে ওই ব্যক্তির চোখের পাতা, ঠোঁট বা মাথার নড়াচড়া দেখা যায়।
পুরোনো ছবির ক্ষেত্রে সমস্যা হয় ছবির মান নিয়ে। স্ক্যান করা ছবিতে দাগ, ঝাপসা অংশ কিংবা কনট্রাস্টের অভাব থাকে। কালো-সাদা ছবিতে আবার ত্বকের রং সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন। তাই অ্যানিমেশন শুরু করার আগে ছবিটিকে একটি নির্দিষ্ট মানে নিয়ে আসতে হয়, যেন AI মডেলটি মুখের সঠিক গঠন বুঝতে পারে। Inithouse-এর ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, এই প্রিপ্রসেসিং পর্যায়েই মূল সময় ও সম্পদ ব্যয় হয়, আর সেখানেই তারা সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছে।
Ziva Fotka শুধু ছবিকে ভিডিও বানায় না, এটি ছবি এডিটও করতে পারে। তবে মূল আকর্ষণ হলো এর পুরোনো ছবি নিয়ে কাজ করার ক্ষমতা। অনেক পরিবারের কাছে দাদু-দিদিমার পুরোনো ছবি থাকলেও সেগুলোর মান ভালো থাকে না। এই টুল সেই ছবিগুলোকে এমনভাবে প্রস্তুত করে যে AI মডেলটি মুখের অভিব্যক্তি শনাক্ত করতে পারে, তারপর সেটিকে নড়াচড়া করায়। ফলে ব্যবহারকারী দেখতে পান যেন সেই ছবির মানুষটি সত্যিই জীবন্ত হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই টুলটি বিশেষ আগ্রহের হতে পারে। এখানে অনেক পরিবারের কাছে পুরোনো ছবির সংগ্রহ আছে, বিশেষত কালো-সাদা ছবি, যা এখনো অ্যালবামে বা কাগজে সুরক্ষিত। যারা ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের জন্যও এটি দরকারি হতে পারে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও চাইলে নিজেদের পারিবারিক ছবিকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ পাবেন। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার বা ডিজাইনাররা এই টুল ব্যবহার করে ক্লায়েন্টদের জন্য স্মৃতিচারণমূলক ভিডিও তৈরি করে আয়ের পথ খুঁজে নিতে পারেন।
তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। Ziva Fotka বর্তমানে মূলত ইংরেজি ভাষার ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি, তবে এর ইন্টারফেস সহজ। যেকোনো শিক্ষিত ব্যবহারকারী চাইলেই এই টুলটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ভবিষ্যতে এই টুলটি আরও উন্নত হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি, বিশেষ করে পুরোনো ছবির মান আরও খারাপ হলেও যেন কাজ করতে পারে, সেদিকে তারা নজর দিচ্ছে।
AI-এর এই ব্যবহার কিন্তু শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এটি ইতিহাসকে নতুনভাবে দেখার একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। পুরোনো ছবিতে থাকা মানুষগুলোর গল্প যেন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছায়, সেদিকেও সাহায্য করবে এই প্রযুক্তি। Inithouse-এর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে AI শুধু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, অতীতকে সংরক্ষণেরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to ML
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...