প্রিন্সটনের AI এখন বাংলাদেশের ট্রাফিক জটের আসল কারণ বের করবে
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বড় ভাষার মডেল (LLM) ও কার্যকারণ বিশ্লেষণ একত্রিত করে ট্রাফিক ডেটা থেকে জট ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করার একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন। এই সিস্টেম ট্রাফিক কর্তৃপক্ষকে 'কী হলে কী হতো' ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে সাহায্য করবে।
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বড় ভাষার মডেল (LLM) ও কার্যকারণ বিশ্লেষণ একত্রিত করে ট্রাফিক ডেটা থেকে জট ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করার একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন। এই সিস্টেম ট্রাফিক কর্তৃপক্ষকে 'কী হলে কী হতো' ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে সাহায্য করবে।
ট্রাফিক জট কেন হয় তা বোঝার জন্য শুধু তথ্যের প্যাটার্ন দেখলেই হয় না। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি করেছেন যা বড় ভাষার মডেল (LLM) ও কার্যকারণ বিশ্লেষণ (causal inference) কে একত্রিত করে। এই পদ্ধতি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষকে সেসব 'কী হলে কী হতো' প্রশ্নের উত্তর দিতে সাহায্য করবে যা আগে সমাধান করা কঠিন ছিল।
গবেষকরা এই সিস্টেম তৈরি করেছেন ট্রাফিক ভিডিও ডেটা থেকে প্রকৃত কারণ বের করার জন্য। সাধারণত ট্রাফিক বিশ্লেষণে শুধু সহসম্পর্ক (correlation) দেখা হয়, কিন্তু কারণ-ও-প্রভাব (causation) বোঝা যায় না। এই নতুন পদ্ধতি প্রাকৃতিক ভাষা (natural language) ও কার্যকারণ যুক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। ফলে ট্রাফিক এজেন্সিগুলো সহজেই বুঝতে পারবে যে কোনো নির্দিষ্ট জট বা দুর্ঘটনার পেছনে আসলে কী কারণ রয়েছে।
এই সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করে তা বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দেখা যাক। ধরুন একটি মোড়ে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রচলিত পদ্ধতি শুধু বলবে যে এখানে দুর্ঘটনার হার বেশি। কিন্তু এই নতুন সিস্টেম 'যদি এখানে একটি ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হতো, তাহলে কি দুর্ঘটনা কমত?' এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। এটি এলএলএম-এর ভাষা বোঝার ক্ষমতা ও কার্যকারণ বিশ্লেষণের গাণিতিক শক্তিকে একত্রিত করে একটি অনন্য সমাধান দিচ্ছে।
প্রিন্সটনের গবেষকরা এই প্রকল্পে ট্রাফিক ভিডিও ডেটা ব্যবহার করেছেন। তারা দেখিয়েছেন যে এলএলএম শুধু টেক্সট নয়, ভিডিও ডেটাও বিশ্লেষণ করতে পারে। সিস্টেমটি ভিডিও থেকে গাড়ির গতিবিধি, জটের সময়, দুর্ঘটনার ধরন ইত্যাদি তথ্য বের করে। তারপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকারণ মডেল তৈরি করে। এই মডেলটি 'কী হলে কী হতো' ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম।
বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণার গুরুত্ব অনেক। ঢাকা শহরের ট্রাফিক জট বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ সময় নষ্ট করে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারবে যে কোন কোন মোড়ে সিগন্যাল বসালে বা কোন রাস্তা প্রশস্ত করলে জট কমবে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থীরা এই গবেষণা থেকে শিখে নিজেদের প্রকল্পে প্রয়োগ করতে পারবেন।
ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি আরও উন্নত হবে বলে আশা করা যায়। গবেষকরা মনে করেন এটি শুধু ট্রাফিক নয়, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। যেকোনো জায়গায় যেখানে 'কী হলে কী হতো' প্রশ্ন জরুরি, সেখানেই এই পদ্ধতি কাজে লাগবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to ML
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...