ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাইল নিউ ইয়র্ক টাইমস, বাংলাদেশের কপিরাইট আইনেও প্রভাব
নিউ ইয়র্ক টাইমসের নেতৃত্বে একদল সাংবাদিক সংস্থা কপিরাইট লঙ্ঘনের মামলায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে। এই মামলার রায় বিশ্বব্যাপী কপিরাইট আইন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের নেতৃত্বে একদল সাংবাদিক সংস্থা কপিরাইট লঙ্ঘনের মামলায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে। এই মামলার রায় বিশ্বব্যাপী কপিরাইট আইন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ আদালতে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করেছে। রিউটার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই গ্রুপটি অভিযোগ করেছে যে ওপেনএআই তাদের কপিরাইটযুক্ত বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া নিজেদের AI মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করেছে। এই মামলাটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এই মামলার গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি বিশ্বব্যাপী কপিরাইট আইন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করতে পারে। যদি আদালত নিউ ইয়র্ক টাইমসের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে AI কোম্পানিগুলোকে ভবিষ্যতে কপিরাইটযুক্ত উপাদান ব্যবহারের জন্য আলাদাভাবে লাইসেন্স নিতে হতে পারে। অন্যদিকে, ওপেনএআই-এর পক্ষে রায় দিলে কন্টেন্ট নির্মাতারা তাদের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
ওপেনএআই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে যে তাদের AI মডেল প্রশিক্ষণের জন্য পাবলিকলি উপলব্ধ ডেটা ব্যবহার করা ফেয়ার ইউজ বা ন্যায্য ব্যবহারের আওতায় পড়ে। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ অন্যান্য সংবাদ সংস্থাগুলো মনে করে যে এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলছে, AI কোম্পানিগুলো কপিরাইটযুক্ত কন্টেন্ট ব্যবহার করে বাণিজ্যিক লাভ করছে কিন্তু মূল নির্মাতাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না।
এই মামলায় নিউ ইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে আরও কয়েকটি বড় সংবাদ সংস্থা যোগ দিয়েছে। তাদের যুক্তি, ওপেনএআই-এর ChatGPT-এর মতো টুলগুলো তাদের লেখা সংবাদ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এই সংবাদগুলো তৈরি করতে তারা কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। এখন AI কোম্পানিগুলো বিনা মূল্যে সেই কাজ ব্যবহার করছে বলে তারা অভিযোগ করছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই মামলার গুরুত্ব অনেক। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং ডিজিটাল মার্কেটাররা নিয়মিত AI টুল ব্যবহার করেন। যদি আন্তর্জাতিকভাবে কপিরাইট আইন কঠোর হয়, তাহলে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদেরও নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি স্টার্টআপ ও ডেভেলপাররা যদি নিজস্ব AI মডেল তৈরি করতে চান, তাহলে তাদেরও ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
এই মামলার রায় আসতে আরও কয়েক মাস বা বছর লেগে যেতে পারে। তবে এটি ইতিমধ্যেই AI শিল্পে একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলার ফলাফল AI প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বিকাশের পথ নির্ধারণ করবে। কপিরাইট আইন এবং প্রযুক্তির মধ্যে এই দ্বন্দ্ব কীভাবে সমাধান হয়, সেদিকে সারা বিশ্বের নজর রয়েছে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews LLM Models
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...