OpenAI 2030 সালের আগে লাভে যাবে না, AI খরচে টালমাটাল
বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত AI কোম্পানি OpenAI জানিয়েছে, তারা কমপক্ষে 2030 সাল পর্যন্ত লাভজনক হবে না। এর কারণ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন পুরো শিল্পের জন্য একটি বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত AI কোম্পানি OpenAI জানিয়েছে, তারা কমপক্ষে 2030 সাল পর্যন্ত লাভজনক হবে না। এর কারণ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন পুরো শিল্পের জন্য একটি বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ChatGPT-এর নির্মাতা OpenAI জানিয়েছে, তারা 2030 সালের আগে লাভজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারবে না। ফাস্ট কোম্পানির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানিটির আর্থিক পূর্বাভাস বলছে, AI সিস্টেমের প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার খরচ এত দ্রুত বাড়ছে যে অদূর ভবিষ্যতে মুনাফা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এই ঘোষণা প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ OpenAI বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ পাওয়া AI কোম্পানিগুলোর একটি। মাইক্রোসফটের মতো জায়ান্ট কোম্পানি তাদের পেছনে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও, এখন দেখা যাচ্ছে যে AI চালানোর প্রকৃত খরচ আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।
OpenAI-এর প্রধান সমস্যা হলো GPU বা গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটের বিপুল ব্যবহার। এই বিশেষ চিপগুলো ছাড়া বড় AI মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় না। একটি মডেল প্রশিক্ষণে কয়েক হাজার GPU সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলে, যার বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আকাশছোঁয়া। GPT-4-এর মতো মডেল প্রশিক্ষণে আনুমানিক ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন।
শুধু প্রশিক্ষণ নয়, প্রতিদিনের ব্যবহারও বিপুল খরচের কারণ। যখন লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী ChatGPT-তে প্রশ্ন করে, প্রতিটি উত্তরের জন্য পেছনে সার্ভার চলে, বিদ্যুৎ খরচ হয়। এই 'ইনফারেন্স' খরচ দিন দিন বাড়ছে। OpenAI এখন API ও সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে আয় করলেও, তা অপারেটিং খরচের তুলনায় নগণ্য।
বাংলাদেশের ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই খবর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ OpenAI-এর খরচ কমানোর চেষ্টা ভবিষ্যতে তাদের পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। যারা ChatGPT Plus বা OpenAI API ব্যবহার করেন, তাদের জন্য সাবস্ক্রিপশন ফি বা প্রতি-কল চার্জ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, এই সংকট স্থানীয় AI স্টার্টআপের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। ছোট, নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি মডেল (small language models) ব্যবহার করে খরচ কমানো যেতে পারে।
শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু OpenAI নয়, Google, Anthropic-এর মতো অন্য বড় AI কোম্পানিগুলোও একই সমস্যার মুখোমুখি। AI খরচ নিয়ন্ত্রণ করা আগামী দশকের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদি খরচ কমানোর কার্যকর উপায় না বের হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
তবে OpenAI এর পরিকল্পনা পুরোপুরি হতাশাজনক নয়। কোম্পানি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর মডেল তৈরির চেষ্টা করছে। তারা আশা করছে, 2030 সালের মধ্যে প্রযুক্তির খরচ কমবে এবং নতুন আয়ের পথ খুলবে। কিন্তু আপাতত, পুরো AI শিল্পকে একটি কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews LLM Models
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...