নগদ টাকার রেকর্ড উচ্চতায়, ডিজিটাল পেমেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যাপক প্রসার সত্ত্বেও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই প্রবণতা দেশের ফিনটেক খাত ও ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।
ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যাপক প্রসার সত্ত্বেও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই প্রবণতা দেশের ফিনটেক খাত ও ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।
ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যাপক প্রসার সত্ত্বেও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের ফিনটেক খাত ও ডিজিটাল অর্থনীতি উদ্যোগের জন্য এই প্রবণতা এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতি ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের হার বৃদ্ধি এবং নগদ লেনদেনের মধ্যে এক বিস্তর ফারাক সৃষ্টি করেছে। অনেক ব্যবহারকারী ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করলেও তারা একই সঙ্গে নগদ অর্থও জমা রাখছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রচলিত নগদ টাকার পরিমাণ গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় 2.5 লাখ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে 2.7 লাখ কোটির বেশি। এই বৃদ্ধির হার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম যেমন বিকাশ, নগদ এবং রকেটের ব্যবহার বাড়লেও মানুষ এখনও বড় অঙ্কের লেনদেন নগদে করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা এখনও অনেক বেশি। ছোট ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল পেমেন্টের চেয়ে নগদ লেনদেনকেই বেশি বিশ্বাস করেন।
এই প্রবণতার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। প্রথমত, ডিজিটাল লেনদেনে সার্ভার ডাউন বা ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দ্বিতীয়ত, অনেক মানুষ এখনও ডিজিটাল পেমেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান। তৃতীয়ত, অবৈধ লেনদেন বা কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে অনেকেই নগদ লেনদেন বেছে নেন।
বাংলাদেশের ফিনটেক খাতের জন্য এই তথ্য এক মিশ্র সংকেত বহন করে। একদিকে ডিজিটাল পেমেন্টের সংখ্যা বাড়ছে, যা দেশের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের সাফল্য দেখায়। অন্যদিকে নগদ অর্থের রেকর্ড উচ্চতা দেখায় যে ডিজিটাল পেমেন্ট এখনও পুরোপুরি নগদ অর্থের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি।
তরুণ উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই খবর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তারা যেহেতু ডিজিটাল লেনদেনের ওপর বেশি নির্ভর করেন, তাই নগদ অর্থের এই প্রবণতা তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন ফিনটেক স্টার্টআপগুলোকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে।
সরকারের ডিজিটাল অর্থনীতি উদ্যোগ সফল করতে হলে নগদ লেনদেনের এই চাহিদা কমাতে হবে। এর জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা বাড়ানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে আস্থা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। বণিক বার্তার প্রতিবেদন বলছে, এই ফারাক কমাতে না পারলে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না।
ভবিষ্যতে ডিজিটাল পেমেন্ট আরও প্রসার পেলেও নগদ অর্থের প্রচলন অনেক দিন থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এই দুই মাধ্যমের মধ্যে ভারসাম্য রেখে একটি সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews BD-Fintech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...