মেটার নতুন AI মগজের চুম্বকীয় সংকেত পড়ে টাইপ করাবে, অস্ত্রোপচার লাগবে না
মেটার FAIR টিমের Brain2Qwerty v2 মডেল মাথার খুলির বাইরে থেকে চুম্বকীয় সংকেত পড়ে মানুষের টাইপিং শনাক্ত করতে পারে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই, তবে প্যারালাইজড রোগীদের জন্য ক্লিনিকাল ব্যবহার এখনও অনেক দূরে।
মেটার FAIR টিমের Brain2Qwerty v2 মডেল মাথার খুলির বাইরে থেকে চুম্বকীয় সংকেত পড়ে মানুষের টাইপিং শনাক্ত করতে পারে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই, তবে প্যারালাইজড রোগীদের জন্য ক্লিনিকাল ব্যবহার এখনও অনেক দূরে।
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা দল FAIR একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তারা Brain2Qwerty v2 নামের একটি AI মডেল তৈরি করেছে যা মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পড়ে সরাসরি টেক্সটে রূপান্তর করতে পারে। সবচেয়ে বড় খবর হলো এই প্রযুক্তির জন্য কোনো অস্ত্রোপচার বা মগজে ইমপ্লান্টের প্রয়োজন নেই।
এই সিস্টেম মাথার খুলির বাইরে থেকে ম্যাগনেটোএনসেফালোগ্রাফি (MEG) নামক প্রযুক্তির মাধ্যমে চুম্বকীয় সংকেত সংগ্রহ করে। এরপর AI সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারে ব্যক্তি কী টাইপ করছে। The Decoder এই খবর প্রকাশ করেছে।
কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেসের সবচেয়ে উন্নত উদাহরণগুলোতে মস্তিষ্কে ইলেকট্রোড বসানোর জন্য অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। মেটার এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ নন-ইনভেসিভ, অর্থাৎ শরীরে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই কাজ করে। এটি প্রযুক্তিটিকে অনেক বেশি সহজলভ্য করতে পারে।
গবেষণার বিস্তারিত বিবরণে দেখা গেছে, Brain2Qwerty v2 এর নির্ভুলতা প্রতিটি অতিরিক্ত রেকর্ডিংয়ের সাথে বাড়ছে। মেটা দাবি করেছে যে AI এজেন্টরা নিজেরাই কোড লিখে এই অপটিমাইজেশন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করেছে। তবে এখনই প্যারালাইজড রোগীদের জন্য এটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ক্লিনিকাল ব্যবহারের পথ এখনও অনেক লম্বা।
প্রযুক্তিগতভাবে, এই সিস্টেমটি MEG মেশিনের মাধ্যমে মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের চুম্বকীয় সংকেত ধরে। সেই কাঁচা তথ্যকে একটি ডিপ লার্নিং মডেলে পাঠানো হয়। মডেলটি সিগন্যালের প্যাটার্ন চিনে বের করে যে ব্যক্তি কোন অক্ষর টাইপ করতে যাচ্ছে। আগের সংস্করণের তুলনায় নতুন ভার্সনের নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ স্ট্রোক বা দুর্ঘটনায় প্যারালাইজড হয়ে পড়ে। তাদের জন্য যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে আই-ট্র্যাকিং বা অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও সেগুলো সবসময় কার্যকর হয় না। মেটার এই নন-ইনভেসিভ পদ্ধতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রোগীদের জন্যও আশার আলো দেখাতে পারে। তবে এজন্য MEG মেশিনের মতো অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দেশে সহজলভ্য করা প্রয়োজন।
FAIR টিমের গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা এখন আরও বেশি সংখ্যক মানুষের ডেটা সংগ্রহ করে মডেলটিকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। লক্ষ্য হলো নির্ভুলতা এতটাই বাড়ানো যাতে এটি বাস্তব জীবনে ব্যবহার উপযোগী হয়। বর্তমানে সিস্টেমটি শুধুমাত্র টাইপিং শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে এটি চিন্তা পড়ার দিকেও অগ্রসর হতে পারে।
উপসংহারে বলা যায়, মেটার Brain2Qwerty v2 একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি। এটি প্রমাণ করে যে অস্ত্রোপচার ছাড়াই মস্তিষ্কের সংকেত পড়া সম্ভব। তবে বাস্তব বিশ্বে এর প্রয়োগের জন্য আরও কয়েক বছরের গবেষণা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: The Decoder
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...