Meta AI-র নতুন ফিচার: আপনার Instagram ছবি থেকে ডিপফেক তৈরি হবে অনুমতি ছাড়াই
Meta AI এখন পাবলিক Instagram ফটো ব্যবহার করে কারও অনুমতি ছাড়াই ডিপফেক তৈরি করতে দিচ্ছে। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুল তথ্য ছড়ানো এবং পরিচয় চুরির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
Meta AI এখন পাবলিক Instagram ফটো ব্যবহার করে কারও অনুমতি ছাড়াই ডিপফেক তৈরি করতে দিচ্ছে। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুল তথ্য ছড়ানো এবং পরিচয় চুরির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম NBC News জানিয়েছে, Meta AI তার নতুন এক ফিচারের মাধ্যমে পাবলিক Instagram ছবি ব্যবহার করে কারও অনুমতি ছাড়াই ডিপফেক তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে। এই ফিচারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের জন্য গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার এক গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। যে কেউ এখন পাবলিক Instagram অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি সংগ্রহ করে সেগুলোর ভুয়া সংস্করণ তৈরি করতে পারবে।
এই প্রযুক্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজলভ্য হয়েছে। ব্যবহারকারীরা Meta AI-এর টুল ব্যবহার করে মাত্র কয়েক ক্লিকেই কারও মুখের ছবি অন্য কোনো ভিডিও বা ছবিতে বসিয়ে দিতে পারবেন। এর ফলে ভুল তথ্য ছড়ানো, পরিচয় চুরি এবং ব্যক্তিগত ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফিচারটি দিয়ে তৈরি ডিপফেক শনাক্ত করা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, Meta এই ফিচার চালু করার আগে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। ব্যবহারকারীদের ছবি পাবলিক থাকলেও, সেগুলোকে ডিপফেক তৈরির জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া নৈতিকভাবে সঠিক নয়। আইনজীবীরা বলছেন, এই ফিচারটি অনেক দেশের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপের GDPR এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের আইনের সঙ্গে এর সরাসরি সংঘাত রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে অনেকে পাবলিক Instagram অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন। এই ফিচারটি বাংলাদেশের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীরা যারা ব্যক্তিগত ছবি পাবলিক করেন, তারা সহজেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
ভুল তথ্য প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, এই ফিচারটি দিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা, ব্যক্তিগত হয়রানি এবং সাইবার বুলিংয়ের নতুন মাত্রা যোগ হবে। বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের এখনই তাদের Instagram অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট করার পরামর্শ দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে পাবলিক ছবি শেয়ার করার আগে কয়েকবার ভেবে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
Meta এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ব্যবহারকারীদের চাপের মুখে কোম্পানিটি এই ফিচারের সীমাবদ্ধতা আরও কঠোর করবে। ভবিষ্যতে ডিপফেক সনাক্তকরণের জন্য আরও উন্নত টুল তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ব্যবহারকারীদের দ্রুত সতর্ক না হলে, এই প্রযুক্তি ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Tools
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...