মাশুল শূন্য হলে ব্যাংকে ফিরবে বিপুল টাকা, লাভ হবে গ্রাহকের
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সেন্ড মানি ও ক্যাশ-আউটের মাশুল শূন্যে নামালে ব্যাংকিং খাতে বিপুল তারল্য ফিরতে পারে। ডিজিটাল লেনদেনকে মৌলিক আর্থিক সেবা হিসেবে দেখার পাশাপাশি ভারতের ইউপিআই-এর আদলে একটি সমন্বিত পেমেন্ট সিস্টেম চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সেন্ড মানি ও ক্যাশ-আউটের মাশুল শূন্যে নামালে ব্যাংকিং খাতে বিপুল তারল্য ফিরতে পারে। ডিজিটাল লেনদেনকে মৌলিক আর্থিক সেবা হিসেবে দেখার পাশাপাশি ভারতের ইউপিআই-এর আদলে একটি সমন্বিত পেমেন্ট সিস্টেম চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) সেন্ড মানি ও ক্যাশ-আউটের মাশুল শূন্যে নামানো গেলে দেশের ব্যাংকিং খাতে বিপুল পরিমাণ তারল্য ফিরতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে হলে এটিকে একটি ব্য�়সাপেক্ষ সেবা নয়, বরং নাগরিকের মৌলিক আর্থিক সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই)-এর আদলে একটি সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সারাবাংলা টেকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এমএফএসের মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা ক্যাশ-আউট করতে গেলে ব্যবহারকারীদের উল্লেখযোগ্য হারে মাশুল গুনতে হয়। এই মাশুলের বোঝা কমলে সাধারণ মানুষ নগদ লেনদেনের বদলে ডিজিটাল মাধ্যমে আরও বেশি নির্ভর করবে। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রবাহ বাড়বে, যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেন এখন আর বিলাসিতা নয়। এটি দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তাই এটিকে মৌলিক আর্থিক সুবিধার আওতায় আনা জরুরি। মাশুল শূন্য করা হলে কম আয়ের মানুষও সহজে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবে। এর ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসবে।
ভারতের ইউপিআই মডেলের কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সেখানে ডিজিটাল লেনদেন প্রায় বিনামূল্যে হয়ে থাকে। এর ফলে ভারতের ব্যাংকিং খাতে বিপুল তারল্য তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও যদি একই রকম একটি সিস্টেম চালু করা যায়, তাহলে এখানকার ব্যাংকিং খাতও উপকৃত হবে। তারা মনে করেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিকাশ, রকেট, নগদসহ একাধিক এমএফএস সেবা চালু আছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব মাশুল কাঠামো নির্ধারণ করে থাকে। ফলে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে আরেক প্ল্যাটফর্মে টাকা পাঠাতে গেলে ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত খরচ হয়। এই খরচ কমানো গেলে ডিজিটাল লেনদেন আরও বেগবান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে প্রবাসী আয় নির্ভর পরিবারগুলো সহজে ও কম খরচে টাকা পেতে পারবে। ব্যবসায়ীরাও লেনদেনের খরচ কমিয়ে আরও সাশ্রয়ীভাবে কাজ করতে পারবেন। এতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
তবে এই পরিবর্তন আনতে হলে নীতিনির্ধারকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মাশুল কমানোই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন ডিজিটাল সেবার মান উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবেই মানুষ আস্থার সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেনে অংশ নেবে।
সব মিলিয়ে এমএফএসের মাশুল শূন্যে নামানো একটি সময়োপযোগী দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়ার পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত আরও মজবুত হবে। এখন দেখার বিষয়, নীতিনির্ধারকেরা এই দাবির প্রতি কতটা সাড়া দেন।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Sarabangla Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...