জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে AI-এর যুগ শুরু, রোগ নির্ণয় হবে দ্রুত ও সাশ্রয়ী
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জিনোম সিকোয়েন্সিং কোম্পানি Illumina-এর CEO জ্যাকব থাইসেন বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) জীবন বিজ্ঞানের গবেষণা ও রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি বদলে দেবে। সম্প্রতি Bloomberg-এর এক সাক্ষাৎকারে তিনি কোম্পানির আয় এবং জিনোম মেডিসিনের নতুন সুযোগ নিয়ে কথা বলেছেন। এই অগ্রগতি বাংলাদেশের গবেষক ও চিকিৎসকদের জন্যও নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জিনোম সিকোয়েন্সিং কোম্পানি Illumina-এর CEO জ্যাকব থাইসেন বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) জীবন বিজ্ঞানের গবেষণা ও রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি বদলে দেবে। সম্প্রতি Bloomberg-এর এক সাক্ষাৎকারে তিনি কোম্পানির আয় এবং জিনোম মেডিসিনের নতুন সুযোগ নিয়ে কথা বলেছেন। এই অগ্রগতি বাংলাদেশের গবেষক ও চিকিৎসকদের জন্যও নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
বিশ্বের বৃহত্তম জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি কোম্পানি Illumina-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) জ্যাকব থাইসেন বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) জীবন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। সম্প্রতি Bloomberg Tech-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কোম্পানির সাম্প্রতিক আয় এবং জিনোম মেডিসিনের ভবিষ্যৎ সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তার মতে, AI-র সাহায্যে জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং সহজলভ্য হয়ে উঠছে।
জিনোম সিকোয়েন্সিং হলো জীবের সম্পূর্ণ ডিএনএ তথ্য পড়ার প্রক্রিয়া। এই প্রযুক্তি দিয়ে ডাক্তাররা রোগ নির্ণয়, ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং জন্মগত রোগ শনাক্ত করতে পারেন। থাইসেন জানিয়েছেন, Illumina এখন AI ব্যবহার করে বিশাল পরিমাণ জিনোম ডেটা বিশ্লেষণ করছে, যা আগে কয়েক সপ্তাহ লাগত। এখন সেই কাজ মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, AI-র মাধ্যমে আমরা রোগের জিনগত কারণ খুঁজে বের করতে পারছি, যা আগে অসম্ভব ছিল।
কোম্পানির সাম্প্রতিক আয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। থাইসেন বলেছেন, করোনা মহামারির সময় এই প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে। এখন গবেষকরা ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের জিনগত ঝুঁকি বোঝার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। তিনি আরও বলেন, AI-র সাহায্যে আমরা এখন একজন মানুষের পুরো জিনোম বিশ্লেষণ করে তার ভবিষ্যৎ রোগের ঝুঁকি আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারব। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং AI-র সমন্বয় স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমাতে পারে। কারণ রোগ ধরা পড়বে আগে, ফলে চিকিৎসা হবে সহজ এবং কম খরচে। থাইসেন বলেন, আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে আছি যেখানে AI আমাদের জিনোমের প্রতিটি অংশ বুঝতে সাহায্য করবে। এটি গবেষণার গতি বাড়িয়ে দেবে এবং নতুন ওষুধ তৈরির পথও সহজ করবে। তিনি মনে করেন, আগামী 5 বছরের মধ্যে জিনোম সিকোয়েন্সিং হবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ।
বাংলাদেশের জন্য এই খবর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশে জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। কিন্তু AI-ভিত্তিক এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের গবেষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। স্থানীয় বায়োটেক স্টার্টআপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন কম খরচে জিনোম ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারবে। এর ফলে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা দেশীয় রোগের জিনগত কারণ খুঁজে বের করতে পারবেন। যেমন ডেঙ্গু, টাইফয়েড বা থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগের জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু জিনগত রোগ নিয়ে জন্মায়। AI-ভিত্তিক জিনোম সিকোয়েন্সিং দিয়ে এই রোগগুলো আগে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক সহজ হবে। এছাড়া কৃষি ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। ফসলের জিনোম বিশ্লেষণ করে খরা বা লবণাক্ততা সহনশীল জাত উদ্ভাবন সম্ভব হবে। থাইসেন বলেছেন, জিনোম প্রযুক্তি শুধু মানুষের রোগ নয়, পৃথিবীর খাদ্য সংকটও সমাধান করতে পারে।
বিশ্ব যখন জিনোম বিপ্লবের দিকে এগোচ্ছে, বাংলাদেশের জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জিনোম গবেষণা এবং AI প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ জরুরি। সরকারের উচিত বায়োটেক স্টার্টআপদের জন্য সহায়ক নীতি তৈরি করা। তাহলে বাংলাদেশও এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারবে। Illumina-এর CEO-র মতে, জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং AI-র এই জোট আগামী দশকে মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দেবে। বিজ্ঞানীরা এখন বিশ্বাস করেন, জিনোমই হবে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হাতিয়ার।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Bloomberg Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...