ই-বর্জ্য আইন কঠোর হলে বাংলাদেশে কমবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, বাড়বে আয়
বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর নিয়ম ও নীতির প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি Dialogue আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর নিয়ম ও নীতির প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি Dialogue আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে দ্রুত বাড়ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্যের পরিমাণ, আর এই বর্জ্য ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা না করলে মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে। সম্প্রতি Dialogue আয়োজিত এক আলোচনায় এই সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর নিয়মকানুন ও নীতির কার্যকর প্রয়োগের জোরালো দাবি উঠেছে। The Daily Star-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্তমান আইন যথেষ্ট নয়, তাই নতুন ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টেলিভিশন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়। এই বর্জ্যের মধ্যে থাকা সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম এবং অন্যান্য ভারী ধাতু মাটি ও পানিতে মিশে পরিবেশকে দূষিত করে। পাশাপাশি, যারা এই বর্জ্য ভাঙার কাজ করেন, তারা সরাসরি বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১’ রয়েছে, কিন্তু এর প্রয়োগ ও তদারকি খুবই দুর্বল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয় না, আর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই শুধু আইন প্রণয়নই নয়, বরং আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে ই-বর্জ্য সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার এবং নিরাপদ নিষ্কাশনের জন্য উন্নত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মাত্র ১০ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়। বাকি ৯০ শতাংশ অপরিকল্পিতভাবে ফেলা হয়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সমস্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ইলেকট্রনিক পণ্য বাজারে আসছে, আর পুরনো পণ্যগুলো ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ মানুষই জানে না যে ই-বর্জ্য কীভাবে নিষ্কাশন করা উচিত। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্কুল, কলেজ এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। বেসরকারি সংস্থা এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে এসে পুনর্ব্যবহার কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, ই-বর্জ্য সমস্যা সমাধানে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সব পর্যায়ের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। কঠোর আইন প্রণয়ন এবং তার সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা করতে পারবে। ভবিষ্যতে যাতে এই বর্জ্য থেকে পরিবেশ ও মানুষের কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য এখনই সচেতন হওয়ার সময়।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews BD-Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...