ডিজিটাল রূপান্তর বাংলাদেশে নতুন বৈষম্য তৈরি করছে, সুবিধা পৌঁছাচ্ছে সবার দোরগোড়ায় নয়
দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনলেও সুবিধা পৌঁছাচ্ছে সবার দোরগোড়ায় নয়। The Financial Express-এর বিশ্লেষণ বলছে, ডিজিটাল রূপান্তরই এখন নতুন এক বৈষম্যের কাঠামো তৈরি করছে। এই বৈষম্য কাটিয়ে উঠতে না পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনলেও সুবিধা পৌঁছাচ্ছে সবার দোরগোড়ায় নয়। The Financial Express-এর বিশ্লেষণ বলছে, ডিজিটাল রূপান্তরই এখন নতুন এক বৈষম্যের কাঠামো তৈরি করছে। এই বৈষম্য কাটিয়ে উঠতে না পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি নতুন এক বৈষম্যের কাঠামো তৈরি করছে বলে জানিয়েছে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস। দেশের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে সুবিধা পাচ্ছে মূলত শহরের সীমিত একটি শ্রেণি। অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রযুক্তির মূল স্রোত থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে।
The Financial Express-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল পরিষেবা যেমন মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন শিক্ষা এবং ই-গভর্ন্যান্স সেবা দেশের শহরাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও গ্রামীণ এলাকায় তা এখনও সীমিত। ইন্টারনেট সংযোগ, স্মার্টফোনের মূল্য এবং ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব এই ব্যবধানকে আরও প্রশস্ত করছে। ফলে যাদের কাছে প্রযুক্তি পৌঁছেছে, তারা নতুন সুযোগ পাচ্ছে, কিন্তু যাদের কাছে পৌঁছায়নি, তারা আরও পিছিয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনটি তুলে ধরেছে যে ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল সমাজের উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির সময় অনলাইন শিক্ষা শহরের বেসরকারি স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা সহজেই গ্রহণ করতে পেরেছে। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট সংযোগই ছিল না। এই ব্যবধান শিক্ষা খাতেই শুধু নয়, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সরকারি সেবার ক্ষেত্রেও প্রকটভাবে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল রূপান্তরের এই অসম বণ্টন ভবিষ্যতে সামাজিক দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে তুলতে পারে। যারা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, তারা কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে। অন্যদিকে যারা পারবে না, তারা বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের শিকার হবে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল অর্থনীতির এই যুগে দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবই হবে নতুন দারিদ্র্যের প্রধান কারণ।
বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের এই চিত্রটি শুধু শহর-গ্রামের ব্যবধানেই সীমাবদ্ধ নয়। নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকারের ব্যবধানও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রায় ৪০ শতাংশ নারী, কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। ডিজিটাল ফাইন্যান্স বা অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও খুবই কম। এই লিঙ্গবৈষম্য ডিজিটাল অর্থনীতিতে নারীদের পিছিয়ে রাখছে।
তবে এই বৈষম্য যে চিরস্থায়ী, তা নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঠিক নীতি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ব্যবধান কমানো সম্ভব। গ্রামীণ এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া, ডিজিটাল সাক্ষরতা কর্মসূচি চালু করা এবং স্থানীয় ভাষায় প্রযুক্তি পরিষেবা তৈরি করা জরুরি। সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করলে ডিজিটাল রূপান্তর সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। দেশের ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ তরুণ, যারা ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু তাদের জন্য প্রয়োজন মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিতে সহজ প্রবেশাধিকার। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস মনে করিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য নির্ভর করবে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে তার ওপর।
সবশেষে, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন তখনই সফল হবে, যখন প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছাবে সমাজের প্রতিটি স্তরে। এই লক্ষ্যে কাজ না করলে ডিজিটাল অগ্রগতি আরও গভীর বৈষম্যের জন্ম দেবে। নীতিনির্ধারকদের এখনই সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ডিজিটাল রূপান্তর একটি টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে সহায়ক হয়।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews BD-IT
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...