ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক না হলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিয়ের নিবন্ধনের সময় ম্যানুয়াল বা কাগজের জন্মসনদের পরিবর্তে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিয়ের নিবন্ধনের সময় ম্যানুয়াল বা কাগজের জন্মসনদের পরিবর্তে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকার বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে ‘বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন, ২০১৭’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ম্যানুয়াল বা কাগজের জন্মসনদের পরিবর্তে অনলাইন ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবহার করতে হবে।
সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবু জাফর এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, এই সংশোধনীর মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধনের সময় জন্মসনদের সত্যতা যাচাই সহজ হবে। এর ফলে কেউ বাল্যবিয়ে করতে চাইলেও সহজে তা আটকানো যাবে।
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক বাল্যবিয়ে হয়। এই আইন সংশোধন সেই হার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার। ডিজিটাল জন্মসনদ ব্যবহার করলে কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে বয়স বাড়িয়ে বিয়ে নিবন্ধন করতে পারবে না। কারণ ডিজিটাল সিস্টেমে প্রতিটি নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন তথ্য সরকারি সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে।
এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ নাগরিকদের জন্য কিছু সুবিধা আসবে। প্রথমত, বিয়ে নিবন্ধনের জন্য আর কাগজের জন্মসনদ জমা দিতে হবে না। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল সিস্টেম হওয়ায় যে কোনো সময় অনলাইনে তথ্য যাচাই করা যাবে। তৃতীয়ত, জালিয়াতি বা ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ কমে যাবে।
তবে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করতে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। দেশের সব এলাকায় ডিজিটাল সেবার প্রসার এখনও সমানভাবে হয়নি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব রয়েছে। সরকারকে সেই সব অঞ্চলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বড় প্রভাব ফেলবে। আইন সংশোধনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচিও জোরদার করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে এই বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।
সারাবাংলা টেক জানিয়েছে, এই আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পাস হওয়ার পর এটি কার্যকর হবে। তখন থেকে বিয়ে নিবন্ধনের জন্য ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক থাকবে।
বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও টেক পেশাজীবীদের জন্য এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল সিস্টেমের প্রসার হলে নতুন করে প্রযুক্তিগত পরিষেবার চাহিদা বাড়বে। সরকারি পোর্টাল ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে আইটি বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন হবে। ফলে টেক সেক্টরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ভবিষ্যতে এই আইন সংশোধন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে একটি মাইলফলক হতে পারে। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। ডিজিটাল জন্মসনদের মাধ্যমে সঠিক বয়স যাচাই করে বিয়ে নিবন্ধন করলে সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে নির্মূল করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Sarabangla Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...