ঢাকায় শব্দদূষণ কমাবে এআই, ডিএনসিসির নতুন পরিকল্পনা
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহারের সাফল্যের পর এবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শব্দ সচেতনতামূলক সমাবেশে এই তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহারের সাফল্যের পর এবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শব্দ সচেতনতামূলক সমাবেশে এই তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় আয়োজিত শব্দ সচেতনতামূলক সমাবেশে এই ঘোষণা দেন।
এর আগে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহারের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ডিএনসিসি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদফতরের সমন্বয়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শব্দদূষণ বাংলাদেশের বড় শহরগুলোর জন্য একটি মারাত্মক পরিবেশগত সমস্যা। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের হর্ন, নির্মাণ কাজ ও বিভিন্ন শিল্পকারখানার কারণে শব্দের মাত্রা প্রায়ই সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা ৫৫ ডেসিবেলের বেশি হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু ঢাকার অনেক এলাকায় এই মাত্রা ৮০ থেকে ৯০ ডেসিবেলেও পৌঁছে যায়।
ডিএনসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সেন্সর বসানো হবে। এই সেন্সরগুলো রিয়েল-টাইমে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করবে। সংগৃহীত ডেটা এআই অ্যালগরিদম বিশ্লেষণ করে দূষণের উৎস ও তীব্রতা চিহ্নিত করবে। এরপর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। যেমন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় শব্দের মাত্রা বেড়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ডিএনসিসির এআই ব্যবহার ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। স্মার্ট সিগন্যাল সিস্টেমের মাধ্যমে যানজট কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একই প্রযুক্তির প্রয়োগ ঢাকার নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থীরা যারা বাসা থেকে কাজ বা পড়াশোনা করেন, তাদের জন্য শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শব্দদূষণ সম্পর্কিত অভিযোগ জমা ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও সহজ হবে। সাধারণ নাগরিকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও শব্দের মাত্রা জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন। এটি পরিবেশ অধিদফতরের জন্যও একটি কার্যকর হাতিয়ার হবে।
ডিএনসিসির এই উদ্যোগ বাংলাদেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এআইভিত্তিক আরও স্মার্ট সমাধান আসবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Sarabangla Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...