চীনের নতুন AI সংস্থায় বাংলাদেশের জন্য ৫ হাজার প্রশিক্ষণ স্লট, কী সুযোগ পাবেন?
শাংহাইয়ে বিশ্ব এআই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য ৫ হাজার এআই প্রশিক্ষণ স্লট দেওয়ার পাশাপাশি আসিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ব্রিকসের সঙ্গে সহযোগিতা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।
শাংহাইয়ে বিশ্ব এআই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য ৫ হাজার এআই প্রশিক্ষণ স্লট দেওয়ার পাশাপাশি আসিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ব্রিকসের সঙ্গে সহযোগিতা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।
চীন বিশ্ব এআই শাসনের জন্য একটি সমান্তরাল কাঠামো গড়ে তোলার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব এআই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এই সংস্থার লক্ষ্য পশ্চিমা প্রভাবমুক্ত একটি এআই শাসনব্যবস্থা তৈরি করা।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য ৫ হাজার এআই প্রশিক্ষণ স্লট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণ স্লটগুলোর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা চীনের এআই প্রযুক্তি ও নীতিমালা সম্পর্কে শিখতে পারবেন। একই সঙ্গে আসিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ব্রিকস এবং অন্যান্য জোটের সঙ্গে সহযোগিতা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ চীনের এআই নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলের অংশ। বর্তমানে বিশ্বের দুই বৃহত্তম এআই শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা চলছে। চীন তার নিজস্ব এআই ইকোসিস্টেম তৈরি করে পশ্চিমা প্রযুক্তি নির্ভরতা কমাতে চায়। বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থা চীনের এই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চীন ইতিমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে এআই নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব মডেল উপস্থাপন করছে। এই সংস্থার মাধ্যমে চীন এআই নৈতিকতা, নিরাপত্তা এবং মানক নির্ধারণে নিজস্ব অবস্থান শক্তিশালী করবে। দ্য ডিকোডার জানিয়েছে, চীনের এই পদক্ষেপ পশ্চিমা দেশগুলোর এআই শাসন কাঠামোর বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই খবর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ গ্লোবাল সাউথের একটি দেশ হিসেবে চীনের এআই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে। বাংলাদেশের ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থীরা এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চীনের এআই টুলস ও ফ্রেমওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া আসিয়ান ও ব্রিকসের মতো জোটের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক থাকায় সহযোগিতা কেন্দ্রগুলোর সুবিধা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের এআই খাত এখনও উন্নয়নশীল পর্যায়ে রয়েছে। চীনের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের এআই গবেষণা ও শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তবে বাংলাদেশকে পশ্চিমা ও চীনা উভয় এআই শাসন কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। দেশের নিজস্ব এআই নীতিমালা তৈরি করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। চীন এই সংস্থার মাধ্যমে এআই প্রযুক্তি স্থানান্তর ও জ্ঞান বিনিময়ের নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চায়। ভবিষ্যতে এই সংস্থা পশ্চিমা এআই জোটের সমান্তরালে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: The Decoder
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...