চীনা চিপে তৈরি ১.৬ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার AI, Nvidia ছাড়াই সাফল্য
চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট মিটুয়ান সম্পূর্ণ দেশীয় চিপ ব্যবহার করে 1.6 ট্রিলিয়ন প্যারামিটার AI মডেল LongCat-2.0 তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে চীন Nvidia-র ওপর নির্ভর না করেই বিশাল AI মডেল প্রশিক্ষণে সক্ষম। এই অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী AI সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট মিটুয়ান সম্পূর্ণ দেশীয় চিপ ব্যবহার করে 1.6 ট্রিলিয়ন প্যারামিটার AI মডেল LongCat-2.0 তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে চীন Nvidia-র ওপর নির্ভর না করেই বিশাল AI মডেল প্রশিক্ষণে সক্ষম। এই অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী AI সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি মিটুয়ান একটি যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। তারা সম্পূর্ণ দেশীয় চিপ ব্যবহার করে LongCat-2.0 নামে 1.6 ট্রিলিয়ন প্যারামিটার AI মডেল তৈরি করেছে। এই মডেল তৈরিতে Nvidia-র কোনো GPU ব্যবহার করা হয়নি।
The Decoder-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনা চীনের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা প্রদর্শন করে। দেশটি এখন নিজস্ব হার্ডওয়্যার দিয়েই বড় আকারের AI মডেল প্রশিক্ষণ দিতে পারে। এটি মার্কিন চিপ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীনের প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
মিটুয়ান মূলত একটি ফুড ডেলিভারি এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু তারা AI গবেষণায় বিপুল বিনিয়োগ করছে। LongCat-2.0-এর মতো বিশাল মডেল তৈরি করে তারা প্রমাণ করেছে যে চীনা কোম্পানিগুলো Nvidia-র A100 বা H100 চিপের ওপর নির্ভর না করেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।
এই মডেলের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত চীনা চিপগুলোর মধ্যে রয়েছে Huawei-র Ascend সিরিজ এবং অন্যান্য স্থানীয় প্রসেসর। যদিও এই চিপগুলো Nvidia-র শীর্ষ GPU-র তুলনায় ধীর, তবুও মিটুয়ান দক্ষ আর্কিটেকচার এবং অপ্টিমাইজেশন কৌশল ব্যবহার করে বিশাল প্যারামিটার কাউন্ট অর্জন করেছে।
ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনে উন্নত চিপ রপ্তানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু মিটুয়ানের সাফল্য দেখায় যে চীন নিজস্ব ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। এটি বিশ্বব্যাপী AI সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য এই খবরের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বাংলাদেশের ডেভেলপার এবং AI গবেষকরা এখন চীনা চিপ-ভিত্তিক সমাধান বিবেচনা করতে পারেন। এটি Nvidia-র ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও সাশ্রয়ী এবং অ্যাক্সেসযোগ্য AI প্রশিক্ষণের পথ খুলে দিতে পারে। ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপরা চীনা ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বড় মডেল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবেন।
তবে এই প্রযুক্তি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চীনা চিপের কর্মক্ষমতা এবং সফটওয়্যার ইকোসিস্টেম এখনও Nvidia-র তুলনায় পিছিয়ে। কিন্তু মিটুয়ানের মতো কোম্পানির সাফল্য দেখায় যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবধান কমছে।
ভবিষ্যতে চীন নিজস্ব AI চিপ শিল্পে আরও বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা যায়। এর ফলে বিশ্ববাজারে AI হার্ডওয়্যারের বিকল্প উৎস তৈরি হবে। বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতও এই পরিবর্তনের সুবিধা নিতে পারে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: The Decoder
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...