ChatGPT-তে রোগীর তথ্য দিলে বিপদ, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সতর্কবার্তা
একজন IT পেশাদার রেডিটে জানিয়েছেন, তার সহকর্মী স্বাস্থ্যকর্মীরা ChatGPT-তে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রবেশ করানো নিয়ে শঙ্কিত। নিবন্ধটি ডেটা গোপনীয়তার ঝুঁকি এবং এর প্রভাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছে।
একজন IT পেশাদার রেডিটে জানিয়েছেন, তার সহকর্মী স্বাস্থ্যকর্মীরা ChatGPT-তে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রবেশ করানো নিয়ে শঙ্কিত। নিবন্ধটি ডেটা গোপনীয়তার ঝুঁকি এবং এর প্রভাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছে।
একজন IT পেশাদার সম্প্রতি রেডিটের r/artificial ফোরামে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার অফিসের পাশে থাকা স্বাস্থ্যসেবা পেশাদাররা নিয়মিত রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য ChatGPT-তে প্রবেশ করানোর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। একজন চিকিৎসক সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, রোগীর তথ্য ChatGPT-তে দেওয়া কি সমস্যা? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি ওই IT বিশেষজ্ঞ।
এই ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের সময় ডেটা গোপনীয়তার একটি বড় ঝুঁকি সামনে এনেছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল তথ্য যেমন রোগীর ইতিহাস, চিকিৎসার বিবরণ বা পরিচয়পত্র নম্বর AI মডেলে দেওয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা বা গবেষণা নেই। মূল পোস্টে কোনো গবেষণার উল্লেখ করা হয়নি, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
OpenAI, ChatGPT-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, তাদের গোপনীয়তা নীতিতে জানিয়েছে যে ব্যবহারকারীর তথ্য মডেল উন্নত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এন্টারপ্রাইজ এবং API ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা নীতি রয়েছে, যেখানে ডেটা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য এই সুরক্ষা নেই। স্বাস্থ্যসেবা পেশাদাররা যদি ফ্রি বা পেইড চ্যাটজিপিটি সংস্করণ ব্যবহার করেন, তাহলে তাদের দেওয়া তথ্য OpenAI-এর সার্ভারে সংরক্ষিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য তথ্য গোপনীয়তা আইন (HIPAA) স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর নিয়ম তৈরি করেছে। কিন্তু ChatGPT বর্তমানে HIPAA-সম্মত নয়। এর মানে হলো, কোনো চিকিৎসক যদি রোগীর নাম, ঠিকানা বা অসুস্থতার বিবরণ ChatGPT-তে দেন, তাহলে তা আইনত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ইউরোপের GDPR আইনেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই প্রশ্নটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা খাত দ্রুত বাড়ছে। অনেক চিকিৎসক এবং হাসপাতাল প্রশাসন ইতোমধ্যেই রোগীর তথ্য ব্যবস্থাপনায় AI টুল ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ডেটা সুরক্ষার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট আইন বা নীতিমালা তৈরি হয়নি। ফলে স্বাস্থ্যসেবা পেশাদাররা যদি সতর্ক না হন, তাহলে রোগীর গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সমস্যার সমাধানের জন্য AI কোম্পানিগুলোর আরও স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ করা জরুরি। ব্যবহারকারীদের জানা উচিত তাদের ডেটা কীভাবে সংরক্ষিত হয় এবং কে তা অ্যাক্সেস করতে পারে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত AI ব্যবহারের আগে আইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
ভবিষ্যতে OpenAI বা অন্যান্য AI কোম্পানি যদি স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিশেষ HIPAA-সম্মত সংস্করণ বাজারে আনে, তাহলে এই উদ্বেগ অনেকটাই কমে যাবে। তবে আপাতত ব্যবহারকারীদের নিজেদের সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। সংবেদনশীল তথ্য AI প্ল্যাটফর্মে দেওয়ার আগে অবশ্যই গোপনীয়তা নীতি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Reddit r/artificial
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...