ChatGPT কি শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি নষ্ট করছে? ডেভ এগারসের সতর্কবার্তা
প্রখ্যাত লেখক ডেভ এগারস ওপেনএআই-এর কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, জেনারেটিভ এআই শিক্ষা ও সৃজনশীল কাজের জন্য ক্ষতিকর। স্যাম অল্টম্যানের আমন্ত্রণে ২০০ কর্মীর সামনে এই সমালোচনা করেন তিনি।
প্রখ্যাত লেখক ডেভ এগারস ওপেনএআই-এর কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, জেনারেটিভ এআই শিক্ষা ও সৃজনশীল কাজের জন্য ক্ষতিকর। স্যাম অল্টম্যানের আমন্ত্রণে ২০০ কর্মীর সামনে এই সমালোচনা করেন তিনি।
প্রখ্যাত লেখক ও ম্যাকসুইনির প্রতিষ্ঠাতা ডেভ এগারস গত বছর ওপেনএআই-এ একটি বক্তৃতায় জেনারেটিভ এআই-এর শিক্ষা ও সৃজনশীল কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের আমন্ত্রণে প্রায় ২০০ কর্মীর সামনে এই বক্তৃতা দেন তিনি।
টেক কমিউনিটি হয়তো ভেবেছিল এগারস উৎপাদনশীলতা বা সৃজনশীলতার কৌশল নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু তিনি বরং চ্যাটজিপিটি-র মতো টুলের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা ও লেখালেখির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এগারস একজন ঔপন্যাসিক, চিত্রনাট্যকার, সাংবাদিক এবং প্রভাবশালী সাহিত্য পত্রিকা ম্যাকসুইনির প্রতিষ্ঠাতা। তার কথা তাই অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।
এগারস তার বক্তৃতায় বলেন, জেনারেটিভ এআই শিক্ষার্থীদের চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যখন সহজেই এআই দিয়ে এসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে পারে, তখন তারা নিজে চিন্তা করা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা হারায়। এটি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রেও একই হুমকি দেখছেন এগারস। তিনি বলেন, লেখক, শিল্পী এবং সাংবাদিকদের কাজ এখন এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এআই যদি মানুষের মতো লেখে বা ছবি আঁকে, তাহলে প্রকৃত সৃজনশীলতার মূল্য কমে যাবে। এগারসের মতে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উচিত এআই-এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং মানুষের দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বক্তৃতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশে শিক্ষা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে এআই-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে কাজ ও পড়াশোনা করছেন। এগারসের সতর্কবার্তা তাদের জন্যও প্রযোজ্য। শিক্ষার্থীদের উচিত এআই-এর ওপর নির্ভর না করে নিজের দক্ষতা বাড়ানো। ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও এআই একটি হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া বিপজ্জনক।
এগারসের এই সমালোচনা প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন করে বিতর্ক শুরু করেছে। ওপেনএআই-এর কর্মীরা তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন বলে জানা গেছে। তবে কোম্পানিটি এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভবিষ্যতে এআই-এর নৈতিক ব্যবহার নিয়ে আরও আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিক্ষা ও সৃজনশীলতা রক্ষায় এআই-এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এগারসের মতো কণ্ঠস্বর আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, মানুষের চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to ML
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...