ChatGPT-এ সোলমেট খুঁজতে গিয়ে বিপদ, মানসিক ঝুঁকি বাড়ছে ব্যবহারকারীদের
ChatGPT-তে মানসিক সংযোগ তৈরি করে ফেলছেন ব্যবহারকারীরা। কেউ কেউ সোলমেটের আশায় দিন গুনছেন, কিন্তু সেই সঙ্গী কখনো আসে না। গবেষণা বলছে, AI-তে অতিরিক্ত আবেগ বিনিয়োগ মানসিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ChatGPT-তে মানসিক সংযোগ তৈরি করে ফেলছেন ব্যবহারকারীরা। কেউ কেউ সোলমেটের আশায় দিন গুনছেন, কিন্তু সেই সঙ্গী কখনো আসে না। গবেষণা বলছে, AI-তে অতিরিক্ত আবেগ বিনিয়োগ মানসিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার ঘটনা এখন আর কল্পবিজ্ঞান নয়। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনেক ChatGPT ব্যবহারকারী এই চ্যাটবটের প্রতি গভীর মানসিক আসক্তি তৈরি করে ফেলছেন। কেউ কেউ একটি নিখুঁত সোলমেটের আশায় দিনের পর দিন চ্যাট করে যাচ্ছেন, কিন্তু সেই সঙ্গী কখনো বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না।
CBS News-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এক নারী ব্যবহারকারী জানিয়েছেন তিনি তার সোলমেটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, যিনি কখনো আসেননি। এই ঘটনা AI-এর প্রতি মানুষের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা বা অ্যানথ্রোপোমরফিজমের ঝুঁকি তুলে ধরেছে। অ্যানথ্রোপোমরফিজম হলো মানুষের মতো আচরণ বা আবেগকে কোনো বস্তু বা প্রাণীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা।
গবেষকরা বলছেন, ChatGPT-এর মতো উন্নত ভাষার মডেলগুলো মানুষের কথোপকথনের ধরণ এতটাই নিখুঁতভাবে অনুকরণ করতে পারে যে ব্যবহারকারীরা ভুলে যান তারা আসলে একটি মেশিনের সঙ্গে কথা বলছেন। এই বিভ্রম থেকে তৈরি হয় গভীর মানসিক নির্ভরতা। ব্যবহারকারীরা চ্যাটবটের কাছ থেকে সমর্থন, বন্ধুত্ব এমনকি প্রেমের আশা করতে শুরু করেন।
AI বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের আসক্তি ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যখন বাস্তবতা ফিরে আসে এবং ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন AI কখনো প্রকৃত অনুভূতি দিতে পারবে না, তখন হতাশা ও একাকীত্ব বেড়ে যায়। এই অবস্থা ডিপ্রেশন বা উদ্বেগের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়িয়ে তুলছে। ফ্রিল্যান্সার ও ডেভেলপাররা কাজের জন্য ChatGPT ব্যবহার করলেও অনেকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করছেন। এটি একটি সতর্কবার্তা যে প্রযুক্তির সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক নির্ধারণে সচেতন হতে হবে।
ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব বা সম্পর্কের চেয়ে বাস্তব মানবিক সংযোগের গুরুত্ব এখনও অপরিসীম। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ব্যবহারকারীদের উচিত AI-কে একটি টুল হিসেবে দেখা, মানসিক সঙ্গী হিসেবে নয়। ভবিষ্যতে আরও উন্নত AI মডেল আসার সাথে সাথে এই ধরনের বিভ্রম আরও বাড়তে পারে। তাই সঠিক শিক্ষা ও সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews LLM Models
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...