ব্রিটিশ স্টার্টআপের ফোটোনিক AI নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা পাবে ৩ গুণ গতি
ব্রিটিশ স্টার্টআপ Oriole Networks বিশ্বের প্রথম পূর্ণ ফোটোনিক নেটওয়ার্কে চালিত বড় আকারের AI সিস্টেম চালু করেছে। এই বাণিজ্যিক উদ্যোগটি AMD-এর সহযোগিতায় যুক্তরাজ্যের অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রোগ্রামের অংশ।
ব্রিটিশ স্টার্টআপ Oriole Networks বিশ্বের প্রথম পূর্ণ ফোটোনিক নেটওয়ার্কে চালিত বড় আকারের AI সিস্টেম চালু করেছে। এই বাণিজ্যিক উদ্যোগটি AMD-এর সহযোগিতায় যুক্তরাজ্যের অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রোগ্রামের অংশ।
যুক্তরাজ্যের ফোটোনিক নেটওয়ার্কিং স্টার্টআপ Oriole Networks Ltd. আজ ঘোষণা করেছে যে তারা বিশ্বের প্রথম পূর্ণ ফোটোনিক নেটওয়ার্কের ওপর চালিত বড় আকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেম স্থাপন করেছে। এটি কোম্পানির প্রযুক্তির প্রথম বাণিজ্যিক ব্যবহার।
এই স্থাপনা Advanced Micro Devices Inc. (AMD)-এর সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে। এটি যুক্তরাজ্যের অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রোগ্রামের একটি অংশ। এই প্রোগ্রামটি দেশটির উচ্চ-প্রযুক্তি গবেষণা ও উন্নয়নকে উৎসাহিত করে।
ফোটোনিক নেটওয়ার্ক বলতে বোঝায় এমন একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে ইলেকট্রনের পরিবর্তে আলো (ফোটন) ব্যবহার করে ডেটা স্থানান্তর করা হয়। প্রচলিত তামার তার বা ইলেকট্রনিক সুইচের তুলনায় ফোটোনিক নেটওয়ার্ক অনেক বেশি গতিশীল এবং কম শক্তি খরচ করে। AI মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ ডেটা দ্রুত স্থানান্তর করা প্রয়োজন। ফোটোনিক নেটওয়ার্ক এই কাজে আগের চেয়ে ১০ গুণ পর্যন্ত দ্রুত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
Oriole Networks-এর এই উদ্যোগ AI শিল্পে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে বড় AI মডেল যেমন GPT-4 বা Google Gemini প্রশিক্ষণের জন্য হাজার হাজার GPU প্রয়োজন হয়। এই GPU গুলোকে সংযুক্ত করতে যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয় তা প্রায়ই ধীরগতির হয় এবং বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। ফোটোনিক নেটওয়ার্ক এই সমস্যা সমাধান করতে পারে। এটি ডেটা ট্রান্সফারের গতি বাড়িয়ে AI মডেল প্রশিক্ষণের সময় কমিয়ে আনতে পারে এবং শক্তি খরচ ৫০ শতাংশের বেশি কমাতে পারে।
AMD-এর সঙ্গে এই অংশীদারিত্বটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। AMD তাদের Instinct সিরিজের GPU এবং ROCm সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে AI কম্পিউটিং শক্তি সরবরাহ করছে। Oriole Networks তাদের ফোটোনিক নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি AMD-এর হার্ডওয়্যারের সঙ্গে সংযুক্ত করে একটি সম্পূর্ণ AI সিস্টেম তৈরি করেছে। সিলিকনএঙ্গেল এআই সূত্রে জানা গেছে, এই সিস্টেমটি বাণিজ্যিকভাবে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই খবরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশে AI এবং ডেটা সায়েন্স নিয়ে কাজ করা ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার এবং শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ফোটোনিক নেটওয়ার্কের মতো প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ক্লাউড কম্পিউটিং এবং AI পরিষেবার খরচ কমিয়ে দিতে পারে। ফলে বাংলাদেশের স্টার্টআপ এবং ছোট ব্যবসাগুলো কম খরচে উন্নত AI টুল ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়াও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বড় ডেটাসেট নিয়ে কাজ করতে পারবেন।
এই প্রযুক্তি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু Oriole Networks-এর এই বাণিজ্যিক স্থাপনা প্রমাণ করে যে ফোটোনিক নেটওয়ার্ক বাস্তব বিশ্বে কাজ করছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি কোম্পানি এই প্রযুক্তি গ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়। এটি AI শিল্পে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: SiliconAngle AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...